বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কলকাতা কাস্টমসের কমিশনার এন কে শরেন হিলি স্থলবন্দর ও হিলি কাস্টমস পরিদর্শন করেছেন।

রোববার দুপুর দেড়টার দিকে কলকাতা কাস্টমসের কমিশনার এন কে শরেন, ডেপুটি কমিশনার নিম শিং, সহকারী কমিশনার প্রাণ লামার নেতৃত্বে হিলি কাস্টমসের কর্মকর্তা ও ভারতের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে ২৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় আসেন। এ সময় বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস ও ব্যবসায়ী নেতারা তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

পরে, প্রতিনিধি দলটি হিলি স্থল শুল্কস্টেশন ও হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শনে পানামা হিলি পোর্টে যান। সেখানে তারা হিলি কাস্টমসের সহকারী কমিশনারের কক্ষে কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে দু-দেশের ব্যবসায়ীরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো তুলে ধরেন। পরে, বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কমিশনারের নিকট ভারতের হিলি কাস্টমসে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার নিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি সম্বলিত একটি পত্র দেওয়া হয়।

বৈঠকে ভারতের হিলি কাস্টমসের সুপারিনটেনডেন্ট দেবাশীষ দত্ত, ধীমান সরকার, অরুন কুমার মন্ডল, হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার মন্ডল, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পান্না দা, হিলি কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাইফুর রহমান, রাজস্ব কর্মকর্তা সাবেদ আলী, বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাশেম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন, যুগ্ম সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত, হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক হারুন উর রশীদ হারুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রেজা শাহীন, পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের সহকারী ব্যাবস্থাপক এস এম হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কলকাতা কাস্টমসের কমিশনার এন কে শরেন সাংবাদিকদের বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে হিলি কাস্টমসের কার্যক্রম নিয়ে তাদের সাথে বৈঠক এবং কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। এতে করে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরো গতিশীলতা আসবে। এছাড়া, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে যে দাবি তোলা হয়েছে সে বিষয়টি দেখা হবে।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাইফুর রহমান বলেন, কলকাতা কাস্টমস কমিশনার বন্দর পরিদর্শন করেছেন। তার এ সফর বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

পরে, তারা হিলি স্থলবন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী ট্রাক ঢোকা ও বাহির হওয়া এবং পণ্য খালাস-পণ্য ভর্তিসহ বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। দুপুর আড়াইটায় কাস্টমস ও ব্যবসায়ী নেতারা দলটি হিলি স্থলবন্দর থেকে বাহির হয়ে হিলি সীমান্ত দিয়ে পুনরায় ভারতে চলে যান।

এএইচ