সিলেটের পর এবার শিশু হত্যার মতো বর্বরতার ঘটনা ঘটলো বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। আর এ ঘটনায় পাষন্ড খুনি আর কেউ নয়, অসহায় শিশুটির মামা।

চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় সিলেটে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সারা দেশে যখন নিন্দার ঝড় বইছে তারইমধ্যে চট্টগ্রামে ৮ বছরের শিশুকে পিটিয়ে হত্যার এমন ঘটনায় রীতিমতো হতবাক দেশের মানুষ। কী হচ্ছে এসব-যেন কোন কুলকিনারা পাচ্ছেন না হতভম্ব দেশবাসী।

সিলেটের শিশু রাজনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল চুরির অভিযোগ, আর চট্টগ্রামের এই শিশটির অপরাধ ছিল, সে তার মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করেছিল। মাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে গিয়েছিল মায়ের কারখানার কাছে।

সংশ্লষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বিএফআইডিসি স্টাফ কোয়ার্টারে পিকন দে নামে এই শিশুকে মারধর করেন তারই মামা সুজন দাশ। সুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শিশু পিকন রাঙ্গুনিয়ার মজুমদারখীল শান্তিনিকতনের বাসিন্দা সুমী দে’র ছেলে। সুমী দে কালুরঘাট শিল্প এলাকার আজিম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি সোয়েটার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন বলেন, ‘সুমী দে বিএফআইডিসি স্টাফ কোয়ার্টারে ২ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাই সুজন দে’র সঙ্গে শিশুটিকে নিয়ে সাবলেট থাকতেন। সেখানে ছেলে পিকনকে রেখে আজিম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তবে ছেলেটি তার মায়ের জন্য সব সময় কান্নাকাটি করতো। এ নিয়ে শিশুটিকে প্রায় সময় মারধর করতেন মামা সুজন দাশ।’

এসআই ইমাম আরো বলেন, ‘এরকম কান্নাকাটির এক পর্যায়ে শিশুটি শনিবারও বাসা থেকে বের হয়ে হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে শিশুটিকে তার মায়ের কারখানার সামনে রাস্তায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে ধরে এনে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেন মামা সুজন দাশ।

পিটুনি খেয়ে শিশুটি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। রোববার দুপুরে শিশুটিকে তার মা গোসল করাতে নিলে দ্বিতীয় দফা সেখানেও মারধর করে সুজন। একপর্যায়ে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।

পরে তাকে উদ্ধার করে তার মা হাসপাতালে নিতে চাইলে এই সুযোগে পালিয়ে যেতে উদ্যত হন সুজন। খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

কেবি