লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যার হুমকি দেয়ার কথা স্বীকার করেছে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া শাফিউর রহমান ফারাবী।

সোমবার সকালে ফারাবীকে গ্রেফতারের পর ঢাকায় র‌্যাব সদর দফতরে সংস্থার মিডিয়া শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মুফতি মাহমুদ বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে ফেসবুকে অভিজিতের সঙ্গে ফারাবীর পরিচয় হয়। এরপর লেখালেখি হতো উভয়ের সঙ্গে। এভাবে চলতে থাকা অবস্থায় উভয়ের মধ্যে মতোবিরোধ দেখা দেয়।

এক পর্যায়ে ফারাবী তার ফেসবুকের আইডি থেকে অভিজিৎকে ব্লক করে দেয়। প্রায় দুই বছর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এরপর অভিজিতের লেখালেখি নিয়ে ফারাবী তার ব্লগে হত্যার হুমকি দিয়ে একাধিক স্ট্যাটাস দেয়।

মাহমুদ খান জানান, অভিজিৎ হত্যার পর তার বাবা অজয় রায়ের দেয়া বক্তব্য খতিয়ে দেখা হয়। সেই বক্তব্য অনুযায়ী র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ফারাবী যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থান করছে। সেই অনুযায়ী সোমবার সকালের দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যার ক্ষেত্রে আসামিরা সহজে কেউ দোষ স্বীকার করে না। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তার সঙ্গে আর কে কে জড়িত ছিল তাদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ফারাবীকে অভিজিৎ হত্যার দায়ে শাহবাগ থানায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে থানায় হস্তান্তর করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিস্তারিত বের হয়ে আসতে পারে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

তার মূল নাম শফিউর রহমান ফারাবী (২৯)। পিতা মৃত ফেরদৌসুর রহমান। ১৯৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানার বড়ভিলা কুমারশীল মোড় কালাইশ্রীপাড়া গ্রামে তার জন্ম। ২০০৫ সালে ঢাকা নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ওই বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে ভর্তি হয় ফারাবী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় সে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়। সেখানে ভালো কিছু করতে না পেরে ২০১০ সালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরে যোগ দেয়। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করায় ২৪ জনের সঙ্গে সেও গ্রেফতার হয়েছিল। এক মাস জেল খাটার পর বের হয় সে। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্লগার রাজীব হত্যার আগে ফারাবী তাকে হুমকি দিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়।

র‌্যাব পরিচালক আরও বলেন, রাজীব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফারাবীকে গ্রেফতার করা হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে সে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় ফারাবী আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন ব্লগারদের হত্যা করতে। তার অনুসারীদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করতে থাকে। তার অনুসারীরাও ফারাবীকে সাহায্য করার কথা বলে।

কেএইচ