মাগুরায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক কর্মীর উপর হামলা চালিয়ে তার হেফাজত থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। মাগুরা থেকে ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ঢাকায় ফেরার পথে শহরের অদূরে রামনগর এলাকায়বু ধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
মাগুরা সদর থানার এস.আই আশরাফুল আলম জানান, মাগুরা শহরের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রিপু গত ২৫ জানুয়ারি মাগুরা থানায় তার স্ত্রী ফারজানা আকতার রানির বিরুদ্ধে গয়না চুরির মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে ফারজানা আকতার রানি তার স্বামী রফিকুল ইসলাম রিপুর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ঢাকার মহম্মদপুর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের স্মরণাপন্ন হন।
এ ঘটনার পর ঢাকায় স্ত্রীর অবস্থানের খবর জানতে পেরে রফিকুল ইসলাম রিপু মাগুরা পুলিশের মাধ্যমে স্ত্রীকে বুধবার আদালতে হাজির করান।
কিন্তু মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হওয়ার পর ওই আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ মামুন রানিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হেফাজতে জামিন দেন।
আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে রানি বিকেল ৫টার দিকে ঈগল পরিবহনে করে মহম্মদপুর আইন সালিশ কেন্দ্রের কর্মী শামসুন্নাহারের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিলেন।
মাগুরা বাস টার্মিনাল থেকে পরিবহনটি ছেড়ে যাওয়ার পর মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের রামনগর এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পরিবহনটির গতিরোধ করে। তারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাসের দরজা ভেঙে ফারজানা আক্তার রানিকে মাইক্রোবাসে জোর করে অপহরণ করে। এ সময় মানবাধিকার কর্মী শামসুন্নাহার বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে রানিকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা মানবাধিকার কর্মী শামসুন্নাহারকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন মানবাধিকার কর্মীর উপর হামলার বিষয়টি স্বীকার করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান।





