টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে বাবাকে বেঁধে রেখে দুই মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনার মামলায় এজাহারভুক্ত ৩নং আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।

শনিবার ভোরে তাকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) শরিফুর রহমান জানান, ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালপুরের কোনবাড়ী এলাকা থেকে নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়।

নজরুল এ মামলার ৩নং আসামি। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলাও রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ মামলার বাকি আসামিদের গ্র্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল রাতে রাজধানী থেকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গাবসারা ইউনিয়নের বেলাটিয়াপাড়ায় গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে যমুনা নদীর পাড়ে ডাকাতদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন ঢাকার একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরির কর্মী দুই বোন।

এসময় তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৪০ হাজার টাকাও লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

পরে গত ২৩ এপ্রিল রাতে ভূঞাপুর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৮ জনকে আসামি করে তাদের বাবা মামলা দায়ের করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ময়চান আলীর দুই মেয়ে ১৩ এপ্রিল গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। তারা দুইজনই ঢাকার একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরীর কর্মী।

মেয়েদের নিতে ময়চান আলী নৌকা নিয়ে উপজেলার গোবিন্দাসী হাটের নদীর ঘাটে আসেন। সেখান থেকে নৌকাযোগে গাবসারার বেলটিয়াপাড়া যাওয়ায় সময় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল তাদের গতিরোধ করে।

এ সময় তাদেরকে নৌকা থেকে নামিয়ে অন্য একটি নৌকাযোগে অন্যত্র ফাঁকা জায়গায় নিয়ে বাবাকে বেঁধে রেখে মেয়ে দুটিকে গণধর্ষণ করে ডাকাতরা।

পরে তাদের পরনে থাকা দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণলঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর দিন ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য সাইদুল ধর্ষিত মেয়েদের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দেয় এবং এই মর্মে হুমকি দেয় যে, ঘটনাটি প্রকাশ করা হলে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

পরে ধর্ষণের ঘটনায় মেয়েদের বাবা গত ২৩ এপ্রিল বাদি হয়ে আকাব্বর আলীর ছেলে নৌকা চালক সুজাল (২৮), চরবিহারী গ্রামের সুরমানের ছেলে রকমান (২২), পাষাণ মণ্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩০), আব্দুর রশিদের ছেলে আসাদুল (৩০) ও চান মিয়ার ছেলে সাইদুল এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৩ জনের নামে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এসএইচ