নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নৌকায় ভোট না দেয়ায় গৃহবধুকে গণধর্ষণকারী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ধর্ষকদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র।
আজ বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নৌকায় ভোট না দেয়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা গৃহবধুকে গণধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধু, চার সন্তানের জননীর উপর নৌকায় ভোট না দেয়ার অপরাধে গণধর্ষণ চালিয়েছে স্বামী সন্তানদের সামনে।
নিবির্চারে আহত করেছে তার স্বামী সন্তানকে। একাত্তরে পাকিস্তানী শাসকদের দোসর রাজাকাররা এদেশের নারীদের সম্ভ্রম হানি করেছিল।
আর আজ স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একমাত্র দাবিদার শক্তির কাঁধে পাকিস্তানী হানাদারের প্রেতাত্মা ভর করেছে। এই অপশক্তিকে চিনে নিতে হবে। এদের হাত থেকে আজ নিস্তার পেতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা ১৬ আসনের প্রার্থী ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য নাঈমা খালেদ মনিকা, অর্থ সম্পাদক তসলিমা আক্তার বিউটি প্রমুখ।
নাঈমা খালেদ মনিকা বলেন, ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের পাশাপাশি ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সে যুদ্ধে এদেশের গরীব মানুষের ভুমিকা প্রধান হলেও আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে দেশে শাষণ শোষণ চালাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনেও মানুষ দিনের আলোয় প্রত্যক্ষ করল নির্লজ্জভাবে সরকার দলীয় জোটের প্রহসনের নির্বাচন। এই নির্বাচনে মানুষ তার সমস্ত অধিকার যেমন হারিয়েছে, তেমনি হারিয়েছে সম্মান, মর্যাদা, সম্ভ্রম।
সভাপতি সীমা দত্ত বলেন, একটা দেশে নারী ও শিশুর অবস্থান নির্নয় করে সেদেশে মানুষ কেমন আছে? নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একজন মা যেভাবে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হল তা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত দশ বছরে এই সরকার নারীর নিরাপত্তা দিতে পারেনি।
ধর্ষকদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে সরকারের ভিত্তিকে শক্ত করার চেষ্টা করেছে সে। তনু হত্যা, বর্ষবরণে নারী নিপীড়নসহ সর্বশেষ সুবর্ণচরে চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সরকার কোন উদ্যোগ নেবে না।
সাধারণ মানুষকে আজ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ধর্ষকদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন এবং দেশের সকল গণতন্ত্রমনা জনগণকে এই অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।





