আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আজ থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে ইসলামের আদি পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) প্রদর্শিত  ‘কোরবানী’র দীক্ষায় দিক্ষিত হয়ে পশু কোরবানীর মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ঈদ উপলক্ষে রোববার শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

ইতোমধ্যে কোরবানীর পশু সংগ্রহ করেছে সামর্থবান মুসলমানরা। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও এ উপলক্ষে দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকালে সরকারি বাসভবন গণভবনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথমে দলীয় নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহান আদর্শ ও শিক্ষাকে চিন্তা ও কর্মে প্রতিফলিত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।

পরমত সহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানসহ মানবাধিকার সমুন্নত রাখার মাধ্যমে শান্তি ও সমপ্রীতিময় বিশ্বসমাজ গঠন করা সম্ভব উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, এ জন্য প্রয়োজন জাতিতে-জাতিতে ধৈর্য, সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালবাসা। আর ঈদুল আজহার মর্মবাণী আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ বৈষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানান।

বাণীতে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রিয়বস্তুকে উৎসগের্র মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভের যে অনুপম দৃষ্টান্ত হযরত ইব্রাহীম (আ.) স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে চিরকাল অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই উৎসবের মধ্যদিয়ে সামর্থ্যবান মুসলমানগণ কোরবানিকৃত পশুর গোশ্ত আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন এবং সমাজে সাম্যের বাণী প্রতিষ্ঠিত করেন।

পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার ঈদ উল আজহা উপলক্ষে এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মুসলমানদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। ঈদ মোবারক।

তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত প্রতি বছর ঈদুল আজহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা কোরবানির প্রধান শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধকে পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়া আমাদের  কর্তব্য। কোরবানির যে মূল শিক্ষা তা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত করে মানব কল্যাণে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের সনত্তষ্টি ও নৈকট্য লাভ সম্ভব। বিশ্বাসী হিসেবে সে চেষ্টায় নিমগ্ন থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

তিনি বলেন, ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত  না থাকে- সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে ঈদের আনন্দকে একসাথে ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে মিলে।

তিনি বলেন, ঈদুল আজহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি, সমাজে সৃষ্টি হোক সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এ প্রার্থনা জানাই।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে ঈদের দিন উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

বরাবরের মতো এবারও ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এখানে সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত হয়। মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

অত্যাধুনিক পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা থাকায় এ আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ১০ হাজার নারীসহ এক লাখ ২৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের পাঁচটি জামাত। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। এর পরের জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১১টায়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা সিটি করপোরেশর উত্তর ও দক্ষিণ দুই অংশের ৯২টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে চারটি করে ৩৬৮ স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ জামাতকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

জেএ