রাজধানীতে হেটেছেন অথচ রাস্তায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ দেখেননি, এরকম মানুষ খুজে পাওয়া দায়। বরং ময়লার গন্ধে শ্বাস বন্ধ করে হেটে চলার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে রাজধানীর প্রায় সব মানুষের। রাস্তা গলিপথ এবং ফুটপাথের ওপর যত্রতত্র আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে তো আছেই। আছে সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর দুর্ভোগ। [img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1399703954.jpg[/img]
সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য মতে,রাজধানীতে দৈনিক গড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। মেডিক্যাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত হয় এক হাজার ৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য।
গুলশান-বাড্ডা নতুন বাজারসংলগ্ন রাস্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশজুড়ে রয়েছে ময়লার স্তূপ। এই চিত্র বহু বছরের। এখানে ময়লা জমে থাকায় দুর্গন্ধে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই অবস্থা মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন সড়কেও। একটি খোলা ট্রেইলারে ময়লা রাখা হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। ময়লার এ ভাগাড়ের উল্টো পাশেই রয়েছে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিদিনই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এ ময়লার দুর্গন্ধ সামলাতে হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1399704007.jpg[/img]
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার সময় কেউ নাক চেপে আর কেউ শ্বাস বন্ধ করে দৌড়ে এ জায়গাটুকু অতিক্রম করে। একটু বৃষ্টি হলেই সব ময়লা রাস্তায় এসে ভয়াবহ দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। এর কোনো প্রতিকার মিলছে না।’
রাজধানীর বনানী,ধানমণ্ডি,বাড্ডা,মালিবাগ,শান্তিনগর, জুরাইন,যাত্রাবাড়ী,আজিমপুর,সদরঘাট,শ্যামবাজার, কাপ্তানবাজার,ধোলাইখাল,দয়াগঞ্জ,বাসাবো,ফকিরাপুল,বেইলি রোড,রামপুরা,নিউ মার্কেট,হাতিরপুল,কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া,মহাখালী,মিরপুর-১ ও ১০,টিকাটুলী,মুগদা, মানিকনগর,ওয়ারী,পোস্তগোলা,শনির আখড়া,রায়েরবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় রয়েছে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির ময়লার খোলা কনটেইনার। আবার এসব কনটেইনার ময়লায় ভরপুর থাকায় পাশেই আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে দিনের পর দিন। ফলে রাজধানীর বাতাসে ময়লার ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1399704143.jpg[/img]
জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রায় সাত হাজার ক্লিনার নিয়মিত বেতন ভাতা নিচ্ছেন। অথচ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও গলিপথে ময়লা আবর্জনার স্তুপ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী।
ডিসিসির হিসাব শাখার এক কর্মকর্তা জানান,ডিসিসিতে সাত হাজার ৭২৩ জন ক্লিনারের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে পাঁচ হাজার ১২৩ জন এবং ঢাকা উত্তরে দুই হাজার ৬০০ জন ক্লিনারের নামে দৈনিক ২৬৫ টাকা করে মজুরি প্রদান করা হয়। কিন্তু দৈনিক পাঁচ হাজার ক্লিনারও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কাজে রাস্তায় নামে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন রাস্তায় প্রায় ৬০০ খোলা কনটেইনার রয়েছে। এসব কনটেইনারে দিনের যেকোনো সময় ময়লা নাড়াচাড়ার ফলে পথচারীদের নাক চেপে চলাফেরা করতে হয়। অথচ নিয়ম অনুসারে প্রতিদিনের আর্বজনা রাত ১২টার পর থেকে ভোরের মধ্যে অপসারণ করার কথা।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1399704182.jpg[/img]
কর্তৃপক্ষের দাবি,পরিত্যক্ত জায়গা না পাওয়ায় ও পর্যাপ্তসংখ্যক কম্পেক্টর না থাকায় রাস্তা থেকে ময়লা যথেষ্ট পরিমাণে সরানোর সুযোগ নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,যে বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করা যায়, তা-ই এখন মহা ভোগান্তি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ঢাকাকে বারবার বসবাসের অযোগ্য নগরীর তালিকায় স্থান দেওয়ার পেছনে এই ময়লা-আবর্জনার ভূমিকাই বেশি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, ‘রাজধানীর পরিত্যক্ত স্থান না পাওয়ায় ৬০০ কনটেইনার রাস্তায় রাখা হয়েছে। ‘বর্জ্য নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জন্য স্কুলে স্কুলে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে।
নাগরিকদের দাবি,বেশির ভাগ আবাসিক এলাকায় সমিতির মাধ্যমে লোক নিয়োগ করে ময়লা সংগ্রহ করা হয়। বাসাবাড়ি থেকে ময়লা এনে তারা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে ফেলে যায়। এর পরও কর্তৃপক্ষ ময়লা অপসারণ করাতে পারে না। দিনের পর দিন রাস্তায় খোলা অবস্থায় ময়লা পড়ে থাকে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1399704244.JPG[/img]
এদিকে সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাক যাওয়ার সময় রাস্তায় ছড়িয়ে যায় ময়লা। ফলে পুরো রাস্তাই যেন ডাস্টবিন হয়ে ওঠে। যানজটে আটকে থেকে গরমে কাহিল দশার মধ্যে এ দুর্গন্ধ যাত্রীদের দুর্ভোগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শেখ মোহাম্মদ জাভেদ ইকবাল বলেন, কোথাও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাবে কিছু বর্জ্য অপসারণের কাজে সমস্যা হয়। কেউ কেউ তাদের সুবিধামতো জায়গায় ময়লা ফেলে থাকে। ফলে সেখানে ময়লার স্তূপ জমে যায়।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন,নগরীর রাস্তার ময়লাগুলো বৃষ্টি হলেই আস্তে আস্তে বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে একদিকে নগরবাসীর যেমন ভোগান্তি হচ্ছে,অন্যদিকে নদীও দূষিত হচ্ছে।
[b]ঢাকা, ১০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]
জাতীয়
দুর্গন্ধে শ্বাস বন্ধ
রাজধানীতে হেটেছেন অথচ রাস্তায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ দেখেননি, এরকম মানুষ খুজে পাওয়া দায়। বরং ময়লার গন্ধে শ্বাস বন্ধ করে হেটে চলার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে রাজধানীর প্রায় সব মানুষের। রাস্তা গলিপথ এবং ফুটপাথের ওপর যত্রতত্র আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে তো আছেই। আছে সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর দুর্ভোগ





