বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের ৫ কোটি টাকার টেন্ডার জমাদানকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে ।

এসময় উভয়পক্ষের ১০জন আহত হয়।মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সংলগ্ন গণপূর্ত অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ গণপূর্ত বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে র‌্যাব-৮ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বরিশালে মেরিন একাডেমির ভবন নির্মাণের জন্য ২৪ মে সাড়ে চার কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়।

এতে বরিশাল ও ঝালকাঠি থেকে ছয়টি দরপত্র সরবরাহ করে ঠিকাদাররা। দরপত্র বিক্রির পর মঙ্গলবার জমাদানের শেষ দিন ছিল।সকালে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক গ্রুপ এবং বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষারের গ্রুপের মধ্যে সিডিউল জমা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রুপ নেয়।

এ সময় উভয়পক্ষের ১০জন আহত হয় এবং একটি মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে ভাংচুর চালানো হয়।জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনিসহ তার অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নাম ভাঙিয়ে বাধা দেয় ভিপি মঈন তুষার, পাসপোর্ট সোহাগ ও পন্ডিত রাজীবসহ ১০ থেকে ১২জন ক্যাডার।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার (রাজ্জাক) নেতাকর্মীরা মঈন তুষারসহ সকলকে মারধর করে কার্যালয় থেকে বের করে দেয়।তবে বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষার বলছেন- কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর পালিত ক্যাডার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক দরপত্র জমাদানকালে বাধা দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার দলীয় নেতাকর্মীরা রাজ্জাকসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে বের করে দেয়।’

তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী মনির আহম্মেদ জানান, তিনি কার্যালয়ে ভাঙচুরের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন, তারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তিনি অভিযোগ করে বলেন, টেন্ডার জমাদানের দিনে এ কার্যালয়ে আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য চেয়ে র‌্যাব, পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু র‌্যার সদস্যরা আসেনি এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত সদস্য দেওয়া হয়নি।

ওই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজাম জানান, পরিস্থিতি সংঘর্ষে রুপ নিলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তাৎক্ষণিক জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে আসা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

এসএইচ