ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ছাত্র ভর্তিকে কেন্দ্র করে কলেজ অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ।
শনিবার সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।
জানা গেছে, গত ২৩ থেকে ২৫ জুন পীরগঞ্জ কলেজে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য মেধাতালিকায় থেকে ৮২৬ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয়। গত ২৮ জুন শূন্য কিছু আসনে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি শুরু হলে কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিজেদের ছাত্রদের ভর্তির জন্য চাপ শিক্ষকদের ওপর প্রয়োগ করেন। এতে কর্তৃপক্ষ ভর্তি স্থগিত করে।
শনিবার পুনরায় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিক বিদ্যুৎ এর নেতৃত্বে কিছু নেতা-কর্মী কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম আলীর ওপর চড়াও হন। এসময় অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রহমান কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে সেখানে যান। এ উচ্ছৃঙ্খল সময় নেতা-কর্মীরা অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ধাক্কাধাক্কি ও কিল ঘুষি মারতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেন তারা।
এ ঘটনার পরেই কলেজের বিজ্ঞান ভবনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায় ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে তারা উপাধ্যক্ষের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
শনিবার সকাল থেকে পুলিশ সেখানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এসময় বিজ্ঞান ভবন থেকে আলমগীরসহ দুই পুলিশ সদস্যকে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়ায় বাধা দেয়ায় রিয়াজুল ইসলাম নামের এক কনস্টেবলের ইউনিফ্রম ছিঁড়ে ফেলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রহমান জানান, আমারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা সম্ভবপর নয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কলেজের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি আমাকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে আমার পক্ষে সম্ভাব্য সব কিছুই করবো।
ঢাকা, ১৯ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





