বগুড়ায় স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে ও ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাতে শহরের আটাপাড়ার এক বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম শারমিন আকতার (২৮)।
হত্যার পর শারমিনকে রাতেই শহরের সেউজগাড়ি এলাকায় বগুড়া নার্সিং হোমে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজন স্বামী লিটন খলিফাকে (৩৮) আটক করে পুলিশে দেয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, স্বর্ণ শ্রমিক লিটন খলিফা প্রায় এক যুগ আগে কাহালু উপজেলার বড়মোহর গ্রামের শারমিন আকতারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ১০ বছর ও তিন বছরের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশী এক নারীর সাথে লিটনের পরকিয়ার সম্পর্ক তৈরি হলে তাদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। লিটন তার প্রেমিকাকে ঈদের শপিং করে দিয়েছে বলে জানাজানি হয়। এতে শারমিন ক্ষুব্ধ হন।
এ নিয়ে বুধবার রাত ৯টার দিকে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে লিটন স্ত্রী শারমিনকে মারধর করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। শারমিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে লিটন তাকে নার্সিং হোমে নিয়ে যান।
বগুড়া স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানিয়েছে, শারমিনকে মারধর করলেও সে হত্যা করেনি। শারমিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তবে শারমিনের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় লিটন তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।
নজরুল ইসলাম পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই গৃহবধূর গলায় ফাঁসের ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হতে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এমআর





