জীবনরে গল্পটা অন্যরকম হতে পারত মনীষার। হতে পার রোদ হাসিতে ভরা। হৃদয়রে আগুনকে শরীরে ঢলে শেষ করলেন যাবতীয় হিসাবের খাতা। উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলা মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে মনীষা (১৬)।
হারিয়ে যাওয়া মনীষা তার বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে না পারলেও জীবন প্রদীপ ঠিকই নীভিয়ে দিতে পেরেছেন। বোনারপাড়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী মানীষার অমতেই পরিবার তার বিয়ে ঠিক করেন পাসের জেলার এক ছেলের সাথে। রুপে গুনের মনীষার সাথে কোন কথা না বলেই সব আয়োজন চলতে থাকে।পরিবার কিংবা বন্ধুদের জানিয়েও কোন সমাধান পাননি মনীষা।
অতপর বুধবার সকাল ১১টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিজের শরীরে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর বাড়ির পাশের পুকুড়ে ঝাপ দেয় মনিষা আক্তার। পরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। উন্নত চকিৎিসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার কথা বলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাকে ঢাকায় না নিয়ে বোনারপাড়া শ্যামপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে মরণ যন্ত্রনায় চিৎকার করতে থাকে মনীষা। শনিবার ভোরে মনীষা ছটফট করতে করতে বিনা চিকিৎসায় মারা যান।
ঘটনায় মনিষার বাবা জানালেন অন্যকথা তিনি বলেন, ‘সে দীর্ঘদিন ধরে মানষিক রোগে ভূগছিলো। সে কারণে সে নিজেই নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগায়’।
এদিকে তার সহপাঠী সাজেনা বেগম জানান, মনীষার মত না নিয়ে তার বিয়ে ঠিক করায় তাকে জীবন দিতে হলো। আর অল্প বয়সে বিয়েতে রাজি হয়নি বলইে তাকে কেরোসিনের আগুনে পুড়ে আত্মহনণের পথ বেছে নিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।মুক্তিনগর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আরশাদ আজিজ রোকন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাঘাটা থানার ওসি মোস্তাফজিুর রহমান বলনে, কোনো মামলা হয়নি সে কারণে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেনা
তবে সব কিছূর পরও মনীষার জীবনের কি কোন মূল্য থাকবেনা পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের কাছে।
রুবেল/নাজিব





