২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং তিন বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। গতকাল (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
সরকারের দুই মেয়াদে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ৩ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মানুষ ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, সরকারের বিদ্যুৎখাত উন্নয়ন পরিকল্পনার যেসব দলিল আছে, তার সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা মাফিক এ খাত উন্নয়ন হয়নি।
উৎপাদন সক্ষমতা সত্বেও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার জন্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না, সরকারের এমন দাবিও যথার্থ নয়।
চাহিদার সঙ্গে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা অর্জিত হয়নি। চাহিদা অনুযায়ী যেটুকু উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, সে অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।
ফলে ২০০৮ সালে যে সক্ষমতা ছিল, তা থেকে সার্বিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। ডিজেল, ফার্নেস অয়েল কিংবা এলএনজি; তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সাশ্রয়ী মূল্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন তিনি।
সংসদে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ৫ বছরে ৪৩ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করে ৪৪ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা দিয়েছে। এখন দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পান।
সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে। ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ এলাকাকে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এএস





