ফিল্মি স্টাইলে গুলি ছুঁড়ে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারায়।

বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ও তার সহযোগী মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নুরপুর মহল্লা থেকে স্কুলছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে।

অপহরণের এক ঘণ্টা পর পুলিশ তাহেরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের বাড়ি থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে।

তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপহৃত স্কুলছাত্রী পৌর এলাকার জামগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় থেকে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন বলেন, 'স্কুলছাত্রী অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই উদ্ধার অভিযানে নামে। পরে তাহেরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।'

স্কুলছাত্রীর পরিবার ও প্রতিবেশিরা জানান, তাহেরপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা (২৪) গত কিছুদিন ধরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন।

শুক্রবার বিকালে যুবলীগ নেতা রানা ও তার সহযোগী যুবলীগ কর্মী মিজানসহ ১০/১২ জন সরাসরি নুরপুর মহল্লার স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এ সময় স্কুলছাত্রীর বাবা-মা মেয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

স্থানীয়রা জানায়, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও মিজানের নেতৃত্বে সশস্ত্র ১২/১৪ জন স্কুলছাত্রীর বাড়িতে হানা দেয়। তারা বাড়িতে ঢুকে প্রথমে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতংক সৃষ্টি করে।

বাড়িতে ভাংচুরের পর তারা ওই স্কুলছাত্রীর বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘর থেকে তাকে বের করে আনেন।

এ সময় যুবলীগ নেতা স্কুলছাত্রীর বাবাকে বলেন, 'বিয়ে দিবি না? দ্যাখ তোর মেয়েকে নিয়ে গেলাম। পারলে কিছু কর। তারা কাপড় দিয়ে স্কুলছাত্রীর মুখ বেঁধে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।'

স্থানীয়রা আরও জানায়, স্কুলছাত্রীর পরিবার যাতে পুলিশে অভিযোগ দিতে যেতে না পারে, সেজন্য যুবলীগের নেতারা বাড়ির চারপাশে ও রাস্তার মুখে সশস্ত্র পাহারা বসায়।

এদিকে অপহরণের এক ঘণ্টা পর বাগমারা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।

স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে যাওয়া পুলিশের দলটি পরে সরাসরি তাহেরপুর পৌর মেয়রের বাসভবনে যায় এবং কিছু সময় অবস্থানের পর স্কুলছাত্রীকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।

পরে প্রাথমিক জবাবনবন্দি রেকর্ড করে স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

এদিকে বাগমারা থানার ওসি শুক্রবার গভীর রাতে বলেন, স্কুলছাত্রী অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ সম্ভাব্য স্থানে উদ্ধারে অভিযান চালায়।
এ সময় পুলিশ জানতে পারে মেয়েটি তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদের বাড়িতেই রয়েছে। পরে মেয়রের সহযোগিতায় মেয়েটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান ওসি।

অন্যদিকে অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে অপহৃত স্কুলছাত্রীর বড় ভাই বলেন, 'আমরা পরিবারের সবাই খুবই নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মামলা করা হবে কি না, সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে জানাতে পারব।'

স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকেরা অভিযোগ করেন, অপহরণকারী যুবলীগ নেতা রানা-মিজানসহ অন্যরা সবাই মেয়র কালামের লোক। পুলিশ যখন মেয়রের বাড়িতে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার যায়, তখন অপহরণকারীরা তার বাড়িতেই অবস্থান করছিল। কিন্তু পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি।

তার বাড়ি থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তাহেরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অপহরণের খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা সোহেল ও মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে তিনি নিজের হেফাজতে নেন। পরে পুলিশকে ডেকে মেয়েটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে।

তার কঠোর অবস্থানের কারণেই অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে মেয়েটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

মাহমুদ.