পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের খোঁজ না পেয়ে শনিবার ষষ্ঠ দিনে গড়ালো উদ্ধার অভিযান। উদ্ধার করা এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪১।

সারাদিন পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের পর শুক্রবার দিবাগত রাতেও অব্যাহতভাবে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করা হয়। রাতভর পিনাক-৫ এর খোঁজে অনুসন্ধানে নিযুক্ত করা হয় উদ্ধারকারী ৫টি জাহাজ। অনুসন্ধানে পদ্মায় তলিয়ে যাওয়া পিনাক-৬ এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে রাত ৩টায় ভোলার দৌলতখান থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

শুক্রবার উদ্ধার তৎপরতার ৫ম দিনে জরিপ-১০, কান্ডারী-২, তিস্তা, সন্ধানী, নৌ-বাহিনীর রেসকিউ বোট, পেট্রোল ক্রাফট, ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ বোট এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বোটের যৌথ তৎপরতা ব্যর্থ হয় ডুবে যাওয়া লঞ্চটির খোঁজ পেতে।

শনিবার সকালে কন্ট্রোলরুমে দায়িত্বরত মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি মাওয়া ঘাটের ডাক-বাংলোতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ চলবে এবং আরো বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এ উদ্ধার কাজ চালানো হবে।

নৌ-বাহিনী টিমের প্রধান ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সব ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে ৫০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে। পিনাক-৬ উদ্ধারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে, কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, মো. সরোয়ার (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার কর‍ার যে গুজব পাওয়া গিয়েছিল, তার নামে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ডুবে যাওয়া লঞ্চের ১২৬ জন যাত্রী। আর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের পরিচয় মিলেছে।

পরিচয় না পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনকে মাদারীপুর জেলার শিবচর করবস্থানে দাফন করা হয়েছে। আর বাকি ৪ জনের লাশ শিবচরের পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদারীপুর জেলার প্রশাসনের আওতায় রাখা হয়েছে।

মাওয়া ঘাট ও শিবচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিখোঁজের স্বজনেরা এখনও অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের একটাই দাবি জীবিত না হোক অন্তত মরদেহটুকু যেন তারা পান।

ঢাকা, ৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ