প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী এখন রাষ্ট্রের নাগরিক। দাসিয়ারছড়া এখন ছিটমহল নয়, এটি বাংলাদেশের অন্তর্গত ফুলবাড়ির এলাকা। আমি ফুলবাড়িতে এসেছি। ফুলবাড়ি এখন নতুন প্রস্ফূটিত ফুলের এক বাগান এবং এখানকার একেকজন একেকটি ফুল।

বৃহস্পতিবার সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার সংলগ্ন প্রস্তাবিত গার্লস হাইস্কুল মাঠে সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

এখানে দাসিয়ারছড়ার বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং ইডকলের প্রোগ্রামের অধীনে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের নতুন নাগরিক বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা ভুলেও এখন আর নিজেদেরকে ছিটের বাসিন্দা বা ছিটি মনে করবেন না, বলবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেন অন্ধকারে না থাকেন সেজন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। আড়াইহাজার পরিবারকে পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। হাইস্কুল, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছি। চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া কাঁচা রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি সকাল সাড়ে দশটার কিছু সময় পর ফুলবাড়ী উপজেলায় নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পরে সেখান থেকে তিনি সড়ক পথে দাসিয়ারছড়ায় আসেন।

দাসিয়ারছড়ার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলবাড়ী হেলিপ্যাডে ফিরে আসবেন। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে কুড়িগ্রাম জেলা সদরে আসবেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগদান করবেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এ সময় তিনি ১৫টি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন এবং ১৬টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় নির্মিত সমন্বিত বীজ হিমাগার; কুড়িগ্রাম টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার; চিফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন; কুড়িগ্রাম সদর ডাকবাংলো, জেলা পরিষদ; ফুলবাড়ী মৎস্য কর্মকর্তার অফিস ভবন কাম ট্রেনিং সেন্টার; ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন; দাসিয়ারছড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রম; রাজারহাট কৃষি-আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার; নাজিমখাঁন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারহাটের দ্বিতল ভবন; চিলমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন; রাজিবপুর মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; রাজিবপুর থানা ভবন; দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রৌমারী একাডেমিক ভবন; নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন; ভুরুঙ্গামারী ডাকবাংলো, উপজেলা পরিষদের উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা।

এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন; কুড়িগ্রাম নার্সিং হোস্টেলের নতুন ভবন; কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রাবাস; কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস; কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের বিজ্ঞান ভবন; কুড়িগ্রাম পৌর অডিটোরিয়াম; কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম; মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন; খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন; কাঁঠালবাড়ী ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন; কৃষ্ণমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন; নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন; রাজিবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; কর্তিমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; নামাজের চর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, উলিপুরের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন তিনি।

জনসভা শেষে বিকালে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

কেএইচ