নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বহুল আলোচিত ‘বণিক সমবায় সমিতি লিঃ’ এ ৩ কোটি ১২ লক্ষ টাকা দুর্নীতি মামলার রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এ রায়ে সাধারণ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

গতকাল শনিবার নোয়াখালী জেলা সমবায় অফিসার মোহাম্মদ দুলাল মিঞা স্বাক্ষরিত এক আদেশনামায় এ রায় প্রকাশ করেন।  এতে সমবায় সমিতি আইন’২০০১ এর ৮৩ (২) উপধারায় ৩ কোটি ১২ লক্ষ ৯২ হাজার ৬৪১ টাকা দুর্নীতির উল্লেখ্য রয়েছে।

রায়ে সদ্য বিদায়ী কার্যকরী পরিষদের ১২জন কে অভিযুক্ত করা হয় এবং এই দুর্নীতির টাকা রায় প্রকাশের ১২০ দিনের মধ্যে আদায় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।

আত্মসাৎকারীরা হলঃ সভাপতি এম.এন আনোয়ার, সহ-সভাপতি জাফর উল্যাহ সবুজ, সম্পাদক আবুল বাশার, পরিচালক মহি উদ্দিন, মমিনুল হক দুলাল, আবদুল করিম, করিমুল হক সাথী, হাজী আবু তাহের, আবদুল হাই বাবুল, মোঃ রহিম উল্যাহ বিরণ, তৌহিদুল হক ও হাফিজ আহাম্মদ।

২০০৪ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় সমবায় সমিতির ডিপো হিসেবে খ্যাত এই সমিতিটি।

 এতে ৬৭৬ জন সদস্য দৈনিক ৫০ টাকা হারে সঞ্চয় জমা করেন।  ২ শতাধিক সদস্য সপ্তাহে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা শেয়ার ক্রয় করে থাকেন।

সমিতির বিপুল পরিমাণ জমাকৃত অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার দীর্ঘদিন থেকে এই সমিতিতে কর্তৃত্ব করে আসছেন বলে একাধিক সদস্য জানিয়েছেন।

সদস্যদের হিসেবে আবুল বাশার ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় এ রায় সমিতির বিপুল ক্ষতির সম্ভাবনা বলেই সদস্যরা মনে করেন।  এত টাকা আত্মসাৎ করার পরও তিনি বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় সমিতির সদস্যরা সমিতিতে আগ্রহ হারাচ্ছে। দুর্নীতির টাকা উদ্ধার না হলে অচীরেই অনেক সমিতি বিলুপ্ত হবে বলে সাধারণ সদস্যরা মনে করেন।

সরেজমিনে সমিতি অফিসে গিয়ে ও সদস্যদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সমিতির বিধি লঙ্ঘন করে সদস্য ভর্তি, সদস্যদের মাঝে ভুয়া বিনিয়োগ, বিনিয়োগে তালবাহানা, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিধিবহির্ভূত মুনাফা মওকুফ, সমিতির স্টাফদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ না করা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।

সাবেক পরিচালক আবদুল হাই বাবুল সাংবাদিকদের জানান, পরিষদের এ অনিয়মের সাথে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জড়িত। সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার কে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে সমিতির দুর্নীতিরটাকা উদ্ধার হবে বলে জানান।

এ ব্যাপারে আবুল বাশার জানান, আমি রায়ে কপি হাতে পেয়েছি। উকিলের সাথে আলোচনা করে আইনী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।

এমকে