কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় কৃষি আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বহুপাক্ষিক সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
দেশের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে কার্যকরী কর্মসূচি গ্রহণের জন্য শাসন কাঠামোকে প্রভাবিত করতে এ সংলাপের আয়োজন করে 'একশন এইড বাংলাদেশ'। সহযোগী হিসেবে ছিলো কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রি ও এশিয়ান ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন।
কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বাদশা বলেন, সরকার নীতি ঘোষণা করছে এক রকম আর কাজ করছে অন্যরকম।
তিনি বলেন, সরকারের কৃষি নীতির মধ্যে রয়েছে ফসল তোলার মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-গমসহ অন্যান্য ফসল সংগ্রহ করবে। এ জন্য দেশের প্রায় সব ক'টি উপজেলাতে কৃষি গুদাম স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কিছু মধ্যস্বত্ব ভোগী মনুফা খোরদের কারণে কৃষকরা গুদামের কাছ পর্যন্ত যেতে পারছেনা। অথচ সরকার এদের ব্যাপারে একেবারে উদাসীন।
তিনি আরও বলেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরসরি ফসল না কেনায় মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কাছে কৃষকদের কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে কৃষকরা ফসলের উৎপাদন খরচও উঠাতে পারছে না। মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে হলে প্রতি উপজেলায় একটি কৃষক আদালত প্রতিষ্ঠার দাবি করেন বাদশা।
প্রস্তাবিত কৃষক আদালতের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভেজাল সার, বীজ, ঋণ জালিয়াতিসহ কৃষকদের সাথে কোনো রকম প্রতরণা করলে তার বিরুদ্ধে কৃষকরা মাত্র ১০ টাকার ব্যাংক ড্রাফ্ট এর মাধ্যমে যাতে মামলা করতে পারে তার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
কৃষক আদালতের বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে বাদশা বলেন, সরকার যদি এটাকে একটি সরকারি বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপন না করে তাহলে প্রয়োজনে বেসরকারি বিল হিসেবে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এতেও যদি সরকার দাবি মেনে না নেয়, তাহলে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলেো জানান।
'একশনএইড' বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, এশিয়ান ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসথার পেনুনিয়া প্রমুখ।
এমএ/এএইচ





