নড়াইলে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওজনে কম দেয়া ও কার্ডধারী প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে সচ্ছলদের এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বঞ্চিতরা। এমনকি একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে চাল দেয়া হচ্ছে বলেও জানা যায়।
আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ভিত্তিতে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরে উপজেলার ১১ নং ইতনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের নামের তালিকা দাখিল করেন। ওই তালিকায় ২১ ও ১৮৮ ক্রমিকে একই ভোটার আইডি কার্ডে ইতনা কাজীপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মনুর ছেলে জাহাঙ্গীর সিকদারের নাম দুবার লিপিবদ্ধ হয়েছে। একই তালিকার ১৬৬ ক্রমিকে ইতনা পশ্চিমপাড়া এলাকার মরহুম শিকদার মনিরুজ্জামানের স্ত্রী লিনা বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমি বা আমার পরিবারের কেউ সরকারের দেয়া চাল পাইনি।’ ওই তালিকায় ৪০৫ ক্রমিকে রয়েছে তায়জুল ভূঁইয়ার স্ত্রী লাকি বেগমের নামও। এ বিষয়ে কথা হলে লাকি বেগম বলেন, ‘লোকের মাধ্যমে শুনেছি আমাদের পরিবারের তিনজনের নামে কার্ড হয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু আমার স্বামীর কার্ডের চাল উত্তোলন করি।’
ট্যাগ অফিসার নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমাকে শুধু একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে আমি ওই ডিলারের ট্যাগ অফিসার। কিন্তু ট্যাগ অফিসার হিসেবে কি কি কাজ করতে হবে, সে সম্পর্কে কোনো দপ্তর আমাকে নির্দেশনা দেয়নি।’ ডিলার শাহীন সরদার বলেন, ‘বস্তা ছেঁড়া থাকার কারণে অনেক কার্ডধারী চাল কম পেয়েছেন।’ তাছাড়া তালিকায় নাম আছে এমন অনেকেই চাল পাননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেককে চিনি না। কার্ড নিয়ে যারা আমাদের কাছে এসেছে তাদেরকেই চাল দিয়েছি।’
চাল কম দেয়ার বিষয়ে নড়াইলের ইতনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও নামের তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব মিলন বলেন, ‘ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ অভিযোগের সত্যতাও রয়েছে।’ তবে একই ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক কার্ড কি করে হলো, সে বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
উজ্জ্বল রায়/জেড





