দীর্ঘ দিন থেকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডস্থ শাখাড়ী পাড়া এলাকায় আলী আহম্মদের ছেলে হোসেন আহম্মেদ অবৈধ সংযোগ চালাচ্ছে। বৃস্পতিবার সকালে ওই সংযোগটি হাতে-নাতে আটক করে লক্ষ্মীপুর পিডিবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, পিডিবি’র বিদ্যুৎ অবৈধ চালালেও সমস্যা নাই। আমার বিদ্যুৎ চুরি হবে, অবৈধ চলবে তার জবাব আমি দিবো। কোথায় নিয়ম হবে আর কোথায় অনিয়ম হবে সেটা আমি দেখবো, আপনাদের সমস্যা কোথায়?
তিনি অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বলেন, পিডিবি’র হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ চলছে, মামলা করবো, জরিমানা করবো, যা ইচ্ছা তাই করবো, সেটা আমার ব্যাপার।
তিনি বলেন, আপনি লেখলেও আমার কিছু করতে পারবেন না। আমি দীর্ঘ দিন লক্ষ্মীপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছি।
সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পিডিবি’র অনিয়ম মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করেছে। দিন দিন বেড়েই চলেছে বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়মের মাত্রা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তেমন নজরদারি না থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের তারে তারে অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। অবৈধ ফাটা তারের সংযোগ খুটি ছাড়াই বাঁশ আর গাছে গাছে চলে গেছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার। এসব অবৈধ সংযোগে অগ্নিকান্ডসহ ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। কোথাও কোথাও এক বাড়ির সংযোগে চলছে আরেক বাড়ি। আবার কোথাও মিটার ছাড়াই কয়েক বছর ধরে চলছে বিদ্যুৎ সেবা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বর্তমান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী গিয়াস উদ্দিন সময়েই সবচেয়ে বেশি ফাটা তার দিয়ে লাইন দেয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী গিয়াস উদ্দিন যোগদান করার পর থেকে বিদ্যুতের অবৈধ লাইনের ছড়াছড়ি মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যানরা এই ফাটা তারের লাইনের দায়িত্ব পালন করে। আর গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা তোলার দায়িত্বটাও তাদের ঘাড়ে। এভাবে অফিস থেকে শুরু করে বিদ্যুতের তার খুটি পর্যন্ত অনিয়মের কারণে সরকার যেমন কাঙ্খিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার মহৎ উদ্দেশ্যও ভেস্তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন গ্রাহকরা। পিডিবি’র লোকজনের যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে চলছে অবৈধ সংযোগ। এছাড়াও অবৈধ সংযোগ ধরে দেওয়ার পরেও নেই কোনো প্রতিকার ব্যবস্থা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রথম শ্রেণির পিডিবির ঠিকাদার জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী গিয়াস উদ্দিন চাহিদা মতো টাকা ছাড়া কোন ফাইলে সাক্ষর করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। মিটার প্রতি গুনে গুনে তাকে টাকা দিতে হয় তারপর সাক্ষর করেন। নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থানে থাকার নির্দেশনা থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী সপ্তাহের অধিকাংশ সময়ই থাকেন বাহিরে।
আলমগীর হোসেন/এসএম





