ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। এখন পর্যন্ত ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে।
কোনো ওষুধ আবিস্কার হয়নি করোনাভাইরাস দমনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতে আপাতত জনসমাগম এড়িয়ে চলাই এই রোগ প্রতিরোধের উপায়। তাতে করে এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তাই বাংলাদেশে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি প্রতিষ্ঠার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু দেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায় ১০ দিনের ছুটি ঘোষণার পর ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক ভিড়। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে।
করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতারও অভাব বেশিরভাগ মানুষের মাঝে। এমন জনসমাগম থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
কমলাপুর রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের সময়ের মতো লাইন ধরে প্রবেশ করছেন যাত্রীরা। ট্রেনে উঠছেন একে অপরের গায়ে ঘেঁষে। নূন্যতম দূরত্বও বজায় রাখছেন না যাত্রীরা। দাঁড়িয়ে চলাচল করছেন লোকজন।
কয়েকজন যাত্রীরা জানান, ঢাকায় একটা আতঙ্ক কাজ করে। এই জন্য বাড়ি চলে যাচ্ছি।
ট্রান্সপোর্টে করোনার ঝুঁকি বাড়বে, তারপরও কেন বাড়ি যাচ্ছেন এমন প্রশ্নে যাত্রীরা বলেন, তারচেয়েও বেশি অনিরাপদ ঢাকা। কোনো রকম বাড়ি ফিরলেই বাঁচি।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সব ট্রেনই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “যাঁরা শহর থেকে গ্রামে যাচ্ছে, তাদের উচিত হবে লোকজনের সংস্পর্শে না যাওয়া। ঘরের ভেতরে থাকা নিশ্চিত করা।”
তিনি বলেন, “আবার গ্রামে থাকা পরিবারেরও উচিত হবে নিজে সতর্ক অবস্থানে থেকে শহর থেকে আসা ব্যক্তিকে সতর্ক করা এবং তার কাছ থেকে অন্যদের নিরাপদ রাখা।”
এমবি





