চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের উত্থাপিত বাজেটে অর্থ আইনের ওপর অর্থ বিল ও আয়কর আইনে কিছু সংযোজন ও সংশোধন করার লক্ষ্যে ১৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়নে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মাজম আলী খান।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত অর্থবছরে কর মুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মহিলাদের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, আমরা এই সীমা ৩ লাখে বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি।’

সর্বজনীন স্বনির্ধারনী পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৮২ বিধি ধারায় মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব রয়েছে। কর কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত হয়রানির কারণে করদাতারা ৮২ বিধি ধারায় রিটার্ন দাখিল পূর্বক আয়কর পরিশোধ করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।’

আয়কর অঙ্গনে অবৈধ প্রতিনিধিত্ব ও দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ ও বেআইনী প্রতিনিধিত্বকারী ও দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে বিপুল সংখ্যক মামলা আপিল, ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট পর্যন্ত দীর্ঘদিন ঝুলে আছে যার ফলে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

প্রবাসী বাঙালিরা অজ্ঞতার কারণে শত শত কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে প্রেরণ করেন, যা আয়কর আইন অনুসারে রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারে না। এ অর্থ সহজ শর্ত সাপেক্ষে ফ্ল্যাট, শিল্প কারখানায় বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে সরকার অনেক রাজস্ব পাবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১৫ টি প্রস্তাব উপস্থাপন করে মাজম আলী খান বলেন, ‘সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরকারের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সকল সুপারিশ করা হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব কর্মকর্তা ও সরকারের ওপর করদাতা ও জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং কর আদায় ত্বরান্বিত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাফর উল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ