সরকার জ্বালানী তেলের মূল্য কমানোর ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে যাত্রী সাধারণের সাথে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
ধনীদের ব্যক্তিগত পরিবহনে ব্যবহৃত পেট্রোল-অকটেনের মূল্য লিটারে ১০ টাকা কমালেও গণপরিবহনে ব্যবহৃত জ্বালানী ডিজেলের মূল্য ৩ টাকা কমানো জাতির সাথে তামাশা বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের নেতারা বলেন, এতে করে পরিবহন মালিকরা লাভবান হলেও দেশের কোন গণপরিবহনে ভাড়া কমবে না।
নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে জ্বালানী তেলের মূল্য বিশ্ব বাজারের সাথে সমন্বয় করে অর্ধেকে নামিয়ে এনে হ্রাসকৃত জ্বালানী তেলের মূল্যের সাথে সমন্বয় করে গণপরিবহনের ভাড়া কমানোর দাবী জানিয়েছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে গণ পরিবহনগুলো যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে বর্ধিত ভাড়া আদায় করে থাকে।
তবে গত রবিবার রাত থেকে জ্বালানী তেলের মূল্য কমানো হলেও দেশের গণপরিবহনের ভাড়া কমানোর কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে গণ পরিবহনের ভাড়া কমানোর জন্য জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, মুজিব সেনা ঐক্যলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইয়াহিয়া চৌধুরীসহ প্রমুখ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গত ৩০ বছরে পাঁচ দফা জ্বালানী তেলের মূল্য কমানোর প্রেক্ষিতে দুই দফা কাগজপত্রে গণপরিবহনের ভাড়া কমানো হলেও এই সুবিধা দেশের যাত্রী সাধারণ পাইনি।
গত ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবর ডিজেলের মূল্য ৫৫ টাকা থেকে কমে ৪৮ টাকা হলে গণপরিবহনের ভাড়া কমানো হয় ৭ পয়সা।
২০০৯ সালের ১২ জানুয়ারী ডিজেলের মূল্য ৪৮ কমে ৪৪ টাকা হলে গণপরিবহনের ভাড়া কমানো হয় ৪ পয়সা।
কাগজপত্রে কমানো এই ভাড়া বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের কোনো তৎপরতাও ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি। জ্বালানী তেলের মূল্য কমানোর এই সুবিধা থেকে যাত্রী সাধারণ এবারো বঞ্চিত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, তেলের মূল্য সরকার এমনভাবে কমালো যাতে ধনীরা আরও ধনী, গরীবরা আরও গরীব হতে পারে। তিনি ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটারে আরও ২০ টাকা কমানোর দাবি জানান।
সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানী তেলের মূল্য কমার পর সরকার ব্যবসায়ী ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে জ্বালানী তেলে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
অবশেষে জন দাবির মুখে জ্বালানী তেলের মূল্য কমানো হলেও এতে সাধারণ জনগণের পরিবর্তে গণপরিবহনের মালিক ও ব্যবসায়ীদের লাভবান করা হয়েছে।
ওএফ





