পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দেবর-ভাবির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করার দায়ে তাদেরকে আরো ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারা ভোগের আদেশ দেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজিমুদ্দৌলা এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো, জেলার কাউখালী উপজেলার বেতকা গ্রামের মৃত জয়নাল হাওলাদারের ছেলে হাবিল হাওলাদার (২৯) এবং নিহত কাবিল হাওলাদারের স্ত্রী নাসিমা আক্তার (২৭)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত কাবিলের স্ত্রী ও ভাই হাবিলের মধ্যে পরকীয়া প্রেম ছিল। পরে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাবিলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাবিলের ঘরে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে ও গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর দা দিয়ে মৃতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে পার্শ্ববর্তী বেতকা খালে ফেলে দেওয়া হয়।
১৬ জুলাই সকালে পিরোজপুর সদরের কলাখালী ইউনিয়নের রাজারকাঠী খালে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পিরোজপুর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরহেদ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় উপ পরিদর্শক (এসআই) জিয়ারত হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে তাদের গ্রেফতার করলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হত্যার ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। ২০০৮ সালে পুলিশ ওই দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে সাক্ষ্য নেওয়া শেষে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে ওই রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর খান মোহম্মদ আলাউদ্দিন এবং আসামি পক্ষে ছিলেন সরোয়ার হোসেন ও আহসানুল কবীর বদল।
কেএইচ





