কুষ্টিয়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। চলতি বছরের গত দেড় মাসে শুধু বিজিবি কয়েক লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য আটক করেছে। বিশেষ অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য ধরা পড়লেও অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি কলেজ মাঠ ও লাদেনের চর নামক স্থানে ৪৭ বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৬২ বোতল বিদেশী মদ ও ৬৩ বোতল ফেন্সিডিল আটক করে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে ভাগজোত মাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫২ বোতল বিদেশী মদ আটক করে। ১০ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মন্ডলপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

৯ ফেব্রয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে গরুরা মাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭১ বোতল বিদেশী মদ আটক করে। ৮ ফেব্রয়ারি দৌলতপুর থানার ময়রামপুর মাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০০ বোতল বিদেশী মদ আটক করে। ৫ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে পোল্ট্রির মোড় নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫২ বোতল বিদেশী মদ আটক করে। ২ ফেব্রয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে পদ্মার চর, আলিম ডোবা এবং ঠোটার পাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫২ বোতল বিদেশী মদ ও ৪৯ বোতল ফেন্সিডিল আটক করে।

৩১ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার পদ্মা নদীর পাড় নামক স্থানে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৫ বোতল বিদেশী মদ ও ১০ বোতল ফেন্সিডিল আটক করে। ২৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার আলিমডোবা মাঠ, চড়–ইকুন্ডি মাঠ এবং ডিগ্রীর চর নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৯৬ বোতল বিদেশী মদ আটক করে।

২২ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে মহিষকুন্ডি কলেজ মাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল ফেন্সিডিল আটক করে। ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ইছাখালী মাঠ, সীমান্ত পিলার ১১৭/২-এস এবং সীমান্ত পিলার ১১৭ এর নিকট অভিযান চালিয়ে ২০১ বোতল ফেন্সিডিল এবং ২৬ হাজার পিস গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট আটক করে।

২০ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে পশ্চিম প্রাগপুর (নিজপাড়া) নামক স্থানে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩ গ্রাম হিরোইনসহ আটক করে। গত ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে আলীমডোবা, গরুরা এবং মহিষকুন্ডি দক্ষিণ মাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল বিদেশী মদ ও ৬৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যান আটক করে।

১৫ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে বিশ্ববাদ মাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ কেজি গাঁজা আটক করে। ১৩ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অধিনে আকন্দপাড়া মাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০০ বোতল ফেন্সিডিল আটক করে। তবে এসব মাদকদ্রব্য ধরা পড়লেও ধরা পড়েনি এর সাথে সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার ১৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এরমধ্যে ৬৫ কিলোমিটারই নদীপথ। এই ৬৫ কিলোমিটার নদীপথ এলাকায় ৪টি বিওপিতে ৬৪ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্বরত আছে। পাশাপাশি নদীপথে চোরাচালান রোধে ৪টি জলযান যুক্ত করা হলেও সীমান্তের উভয় পথে মাদক চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সুত্র জানায়, প্রথমে মাদক বহনকারীরা সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বস্তায় নিয়ে সাঁতরে নদী পার হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে সেগুলো পৌঁছে দেয়। এরপর তারা সুবিধামতো তৃতীয় ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয় এবং তৃতীয়জন তা পৌঁছে দেয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এছাড়াও যেখানে কাঁটাতার আছে সেখানে ভারতীয়রা ছোট ছোট পুঁটলি বেঁধে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ওপার থেকে এপারে ছুঁড়ে ফেলে এবং বাংলাদেশি মাদক ব্যবসায়ীরা সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তাদের গন্তব্যে নিয়ে যায়।

এরপর তারা সুবিধামতো স্থানে মজুদ করে চাহিদা অনুসারে দেশের বিভিন্ন পৌঁছে দেয়। একইভাবে প্রাগপুর, গড়ুরা, ধর্মদহ, শেহালা, ডাংমড়কা, মথুরাপুর, তারাগুনিয়া, আল্লারদর্গা, রিফাইতপুর ও দৌলতপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এদিকে উপজেলার প্রাগপুর, রঘুনাথপুর, বিশ্বাসপাড়া, ময়রামপুর, বিলগাথুয়া, মহিষকুন্ডি, জামালপুর, জামালপুর ভাঙ্গাপাড়া, ধর্মদহ, তেকালা, গড়–রা, ভাগজোত, মথুরাপুর, হোসেনাবাদ, সিরাজনগর, আবেদের ঘাট, ফিলিপনগর, দৌলতপুর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, রিফাইতপুর, সোনাইকান্দি, সাদিপুর, বেগুন বাড়িয়া, আল্লারদর্গা, সোনাইকুন্ডি, তারাগুনিয়া, খলিশাকুন্ডি, বৈরাগীরচরসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মাদকের আস্তানা গড়ে উঠেছে।

মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে না। তবে কারন অনুসন্ধান করে আগ থেকেই, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিলে অনেকটা পরিত্রান পাওয়া সম্ভব। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া শহরসহ আশে পাশের এলাকায় ফেন্সিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা যত্রতত্র বিক্রি হতো, তবে বর্তমানে মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করায় এর ব্যাপকতা বেশ কমে গেছে। এছাড়া সচেতনতা বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়ায় জনগণ এখন আর আগের মত মাদক সেবন বা ব্যবসা করে না।

এমএম