২৫ জুলাই শুরু হওয়া হালনাগাদে আঠারো বছরের কম বসয়ীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে থেকে বুধবার বিকেলে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইসির জনংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হওয়ার পর থেকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অল্পবয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করার কঠোর সমালোচনা করে। বিষয়টি নজরে এলে ইসি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে।

আসাদুজ্জামান জানান, একটি বেসরকারি সংস্থা এবং কোনো কোনো মহল ভোটার তালিকা হালনাগাদে যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তাদের বয়স নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সবার অবগতির জন্য স্পষ্ট করে জানাচ্ছে যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ করেই ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনোভাবেই অপ্রাপ্তবয়স্ক কারো ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আসাদুজ্জামান জানান, ইসি ভোটার তালিকা আইন-২০০৯ এর ১১ ধারা অনুযায়ী হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। এবার হালনাগাদে দুই বছরের অগ্রীম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ১ জানুয়ারি ১৯৯৮ বা তার আগে যাদের জন্ম অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০১৬ যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সাদা কাগজে নিবন্ধনের জন্য স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। এদের তালিকাভুক্ত করে ২০১৬ সালে ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। দাবি আপত্তি নিষ্পত্তির পর ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, অন্যদিকে ২ জানুয়ারি ১৯৯৮ থেকে ১ জানুয়ারি ২০০০ যাদের জন্ম তাদের তথ্য সংগ্রহ করে নিবন্ধনের জন্য ভিন্ন রঙের তথ্য স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। এদের সংগৃহীত তথ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা কোনোভাবেই মূল ডাটাবেজে বা ভোটার তালিকায় সংযোজনের কোনো সুযোগ নেই।

অগ্রিম তথ্য সংগ্রহের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরও জানান, দুই বছরের অগ্রিম তথ্য নেওয়ার কারণে আগামী দুই বছর আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে না। এতে একদিকে অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে তথ্য সংগ্রহের কাজে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োজিত করতে হবে না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করার ফলে বিধি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে খসড়া প্রকাশ ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন সহজ হবে।

আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রতি বছর ২ জানুয়ারি হতে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হয়। নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী হালনাগাদ করে থাকে। এবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটে না।

কোনো ধরনের ভুল ও অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না ছড়ানোর জন্য নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এএইচ