ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরতে বিআরটিএ’র অব্যাহত অভিযানে গণপরিবহন সঙ্কটে দ্বিতীয় দিনের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে রাজধানীবাসীকে।
সোমবার এই অভিযানে জেল-জরিমানা শুরু হলে পুরনো বাস সড়ক থেকে উধাও হয়ে যায়। এতে পরিবহন সঙ্কটে কর্মজীবী মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়, যার জন্য সড়ক পরিবহনমন্ত্রী দুঃখও প্রকাশ করেন।
অভিযানের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার এয়ারপোর্ট রোডের শ্যাওড়া, মিরপুর রোডের শ্যামলী এবং পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চালায়।
এতে এই সড়কে বেসরকারি গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়েও বাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে।
শ্যাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিআরটিএ’র নির্বাহী হাকিম আবুল বাশারের নেতৃত্বে বেলা ৩টা পর্যন্ত অভিযান চলে।
বাশার বলেন, “আমার কোর্টে ৩৫টি মামলা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ২৬ হাজার ২০০ টাকা। আর ডাম্পিং করা হয়েছে একটি গাড়ি।”
শ্যাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযানের সময় রেলিং না থাকার কারণে জরিমানা গুনতে হয় পিকআপভ্যান চালক রনিকে। এক হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে তাকে।
এসময় আরও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, ঢাকা-শেরপুর রুটে চলাচলকারী মুনরাজ পরিবহনের একটি বাস, মিরপুর থেকে টঙ্গীতে চলাচলকারী দেশ বাংলা ট্রান্সপোর্টের একটি বাস এবং গাবতলী থেকে গাজীপুরে চলাচলকারী বসুমতি ট্রান্সপোর্টের একটি বাসকে।
বাবু বাজার ব্রিজ এলাকায় অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী হাকিম দেবাশীষ নাগ মোট ২২টি মামলা করেছেন, জরিমানা করেছেন ২৯ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া একটি গাড়ির কাগজ জব্দ এবং দুটি ‘ডাম্পিং’ করা হয়েছে।
বিআরটিএ’র হাকিম বাশার বলেন, “এটি মূলত রুটিন ওয়ার্ক, যার সাথে একটি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। এটি চলবে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত।”
এই অভিযানে গাড়ির ফিটনেসের পাশাপাশি গাড়ির রুট পারমিট রয়েছে কি না, চালকের লাইসেন্স আছে কি না, মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন রয়েছে কি না, চালকের হেলমেট আছে কি না, এসব দেখা হচ্ছে।
বিআরটিএ’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেড় কোটি জনসংখ্যার ঢাকা শহরের ১৬৮টি রুটে চলাচলরত বাসের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে মিনিবাস ৩ হাজার ১২৬টি, আর বড় বাসের সংখ্যা ২ হাজার ২৮১টি।
১০ বছর আগে ঢাকায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাস চলাচল করত। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গণপরিবহণ নিয়ে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ঢাকাবাসীকে।
ঢাকায় সরকারি সংস্থা বিআরটিসি ৬৩টি রুটে ২৬৩টি বাস চালিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে ৮ হাজার একটি। আর ট্যাক্সিক্যাব রয়েছে ৫০০টি।
জেআই





