রাজধানীর কাওরান বাজারে বিএসইসি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হচ্ছে।
যদিও শুক্রবার ঘটনাস্থলেই ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মো. মাহবুবুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।
তার সেই ঘোষণার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর রবিবার দুপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক শেখ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তের কাজে নামবে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক শেখ মিজানুর রহমান বলেন, বিএসইসি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রবিবার দুপুর থেকে তদন্ত শুরু করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের নামসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া আপাতত আর কিছু জানাতে পারছি না। তদন্ত শেষে সবকিছু জানানো হবে। তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদনটি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।
তিনি জানান, তদন্তের সময় ২০০৭ সালে বিএসইসি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি মাথায় রাখা হবে।
বিএসইসি ভবনে শুক্রবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ওই ভবনের ১১তম তলায় আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ঘটনার ঠিক পর পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১১তম তলা ছাড়া অন্য কোনো তলা, ছাদে আগুন ছড়ায়নি। ১১তম তলার প্রত্যেক রুম আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। আমার দেশের অফিসের ফলস ছাদ পুড়ে কেবলগুলো ঝুলে আছে। কম্পিউটার ও
এসিগুলো অক্ষত নেই। হাতেগোনা কয়েকটি ডেস্ক বাদে বাকি সব ডেস্কে কম্পিউটারের অস্তিত্ব নেই। সেখানে গলিত কিছু পদার্থ পড়ে আছে। ডেস্কগুলোও দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, আগের তুলনায় এ ভবনের আগুন নির্বাপণের জন্য সিস্টেমের কিছু উন্নতি করা হলেও ফায়ার এক্সিট আছে মাত্র দুটি। যা পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়াও ভবনের ভেতরে আসবাবপত্র কিংবা যন্ত্রপাতি রাখার যে পরিবেশ রয়েছে তাও সন্তোষজনক নয়।
এর আগে ২০০৭ সালে ভবনটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনার প্রতিবেদন এখনও জমা দেওয়া হয়নি কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু যে কোনো কারণবশত তা প্রকাশ করা হয়নি।
এনটিভির বার্তা সম্পাদক আনোয়ার হক বলেন, ৭ম তলায় আমাদের অফিস। এবার তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি আমাদের হয়নি। কিন্তু এভাবে বার বার আগুন লাগাটা আতঙ্কের। এর আগের বারের তদন্ত রিপোর্টও হাতে পাইনি। এবার অন্তত তদন্ত করে সঠিক কারণটা বের করা হোক। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই আমরা পরিষ্কার হতে পারব আগুন লাগার কারণটা কি ছিল।
অগ্নিকান্ডে ১১০টি কম্পিউটার, ২৪টি এসি, আসবাবপত্রসহ আমার দেশ পত্রিকার ৮০ লাখ টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক আমার দেশের সিনিয়র রিপোর্টার মাহমুদা ডলি বলেন, সবই শেষ হয়ে গেল। প্রয়োজনীয় সব ফাইল, নিউজের ব্যাকআপসহ অনেক কিছুই ছিল এই রুমে। আমাদের সার্ভারসহ সকল আর্কাইভ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মাহমুদুর রহমানসহ আমার দেশের অস্তিত্ব শেষ করে দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভবনটির নিচ তলায় এবি ব্যাংক, ২য় তলায় ইষ্টার্ণ টিউবস ও ন্যাশনাল টিউবস, ৩য় তলায় ইষ্টার্ণ ক্যাবলস্, ৪র্থ তলায় বাংলাদেশ ইস্পাত স্টিল, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় আরটিভি, ৭ম ৮ম ও ৯ম তলায় এনটিভি, ১০ম তলায় তিনটি সরকারী ও বেসরকারী অফিস এবং ১১তম তলায় আমার দেশের স্টোর রুম ও আরটিভির প্রশাসনিক অফিস ছিল।
ইআর





