বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী আজ (মঙ্গলবার)। এ উপলক্ষে বিবৃতি দেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে মওলানা ভাসানী আজীবন শোষিতের পক্ষ নিয়ে শোষকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন অক্লান্তভাবে। তিনি নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকল সময় থেকেছেন আপসহীন নেতৃত্বের ভূমিকায়।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে সকল স্বৈরশাসকের অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা এবং দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক মজলুম জননেতা মরহুম মওলানা ভাসানীর অবদান নিঃসন্দেহে স্মরণীয়।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশ ও জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মরহুম আবদুল হামিদ খান ভাসানীর বলিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকা আমাদেরকে চিরদিন একটি শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ ও সমাজ বিনির্মাণে প্রেরণা ও উৎসাহ জোগাবে।
তাঁর প্রদর্শিত পথ ধরে চলতে পারলেই একদলীয় স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বহুদলীয় গণতন্ত্রের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে কোনো কঠিন বাধাই আমাদের পথ আগলাতে সক্ষম হবে না।’
খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব চরম সংকটাপন্ন। গণতন্ত্রকে অতল গহব্বরে পাঠানো হয়েছে। আধিপত্যবাদ আজও ডানা বিস্তার করে রেখেছে।
৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচন করে গণতন্ত্রবিনাশী উৎপীড়ক শাসকশ্রেণি জনমতকে রক্তাক্ত পন্থায় দমন করে ক্ষমতা জবরদখল করে রেখেছে। আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার প্রথম তুর্যবাদক মওলানা ভাসানীর উদ্যম ও সাহসিকতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারলেই আগ্রাসী শক্তিকে আমরা রুখতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ্।’
এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ছিলেন আফ্রো-এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।
তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হতো বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের দাবি। তিনি ছিলেন মজলুমের বন্ধু, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ এবং অত্যাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক আপসহীন যোদ্ধা।’





