চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় আটকা পড়া পটুয়াখালীগামী এমভি সাত্তার খান-১ এর সব যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়ে ৩০ ঘণ্টা পর পটুয়াখালীতে পৌঁছেছেন। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এমভি আঁচল-২ নামের অপর একটি লঞ্চে তারা গন্তব্যে পৌঁছান।
শনিবার বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে রাত সাড়ে ১২টায় পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেন পটুয়াখালী নৌ-বন্দর কর্মকর্তা মো. রাজ্জাক হোসেন।
চাদপুর নৌ-বন্দর কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, রুট বদল করে চলাচলের অভিযোগে এমভি সাত্তার খান-১ লঞ্চের সারেংসহ সব স্টাফকে আটকের পর লঞ্চটি জব্দ করে চাদপুর নৌ-বন্দরে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
লঞ্চের যাত্রী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকা ঘাট ত্যাগ করে। লঞ্চটি চালাচ্ছিল স্টাফরা। যে কারণে নির্ধারিত রুট ব্যবহার না করে ভিন্ন রুটে যাওয়ায় লঞ্চটি ডুবোচরে আটকে যায়।
এদিকে হাইমচর থেকে চাঁদপুর, তারপর চাঁদপুর থেকে রাতে পটুয়াখালী আসতে যাত্রীদের পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
এসময় যাত্রীদের পানি, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকটে সীমাহীন কষ্ট করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া গ্রামের যাত্রী আনোয়ার হোসেন, সোহরাবসহ অনেকে।
যাত্রীদের কাছ থেকে উভয় লঞ্চ থেকে আদায় করা হয়েছে বাড়তি ভাড়া। এই বাড়তি ভাড়া দিতে গিয়ে অনেকে খাবার কিনে খেতে পারেন নি। যাত্রীরা ছিল লঞ্চ স্টাফদের কাছে জিম্মি। অসহায় যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে আঁচল-২ লঞ্চের স্টাফদের বিরুদ্ধে। যাত্রী ফোরকান ও নাসরিন বেগম জানান ক্ষুধায় অসহনীয় কষ্ট ভোগ করেও লঞ্চে কোনো খাবার পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার দূর-দূরান্তে যাত্রীদের। কারণ গভীর রাতে পটুয়াখালী শহরের বাইরে যাওয়ার মতো কোনো যানবাহন ছিল না। যে কারণে অধিকাংশ যাত্রীরা পটুয়াখালী লঞ্চঘাটের পল্টুনে ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করেছেন।
এদিকে বেশি ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে আঁচল-২ লঞ্চের সুপারভাইজার বা অন্য স্টাফরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি সাত্তার খান-১ লঞ্চটি পথিমধ্যে রাত ১১টার দিকে হাইমচর উপজেলার মধ্যচরে এক হাজারেরও বেশি যাত্রী নিয়ে আটকে যায়।
লঞ্চটি উদ্ধার করার জন্য সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুর থেকে বিআইডাব্লিউটিএর কর্মকর্তারা এম ভি রফ রফ-২ নামের আরেকটি লঞ্চ নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে চরের কারণে আটকা পড়া লঞ্চটির কাছে ভিড়তে পারেনি। ফলে যাত্রীদের ছোট ছোট কার্গো করে উদ্ধারকারী লঞ্চে আনা হয়। এক পযায়ে দুপুর আড়াইটা নাগাদ রফ রফ-২ লঞ্চটি চাদপুর ঘাটে পৌঁছে।
ঢাকা, ২৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





