জেলার বাঘা উপজেলার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হককে অপহরণের ১০ দিন পর উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব-৫ এর একটি দল মঙ্গলবার বিকেলে নাটোরের দুর্গম এলাকার একটি বাড়িতে শেকলবদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্কুলশিক্ষক ও গ্রেফতারদের বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর শফিকুল ইসলাম জানান, ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক (৫৫) ৫০ হাজার টাকা পেতেন মোশারফ হোসেন ওরফে জামানের কাছে। মোশারফ ওই টাকা দেওয়ার কথা বলে ২৯ আগস্ট প্রধান শিক্ষক এমদাদকে নাটোরের সিংড়া থানার জামতলায় যেতে বলেন। সেখান থেকে আরেকটু এগিয়ে যাওয়ার কথা বলে মোশারফ তাকে শাহাদাতের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রাতের খাবার শেষে মোশারফসহ অপর তিন সহযোগী রাজ্জাক, ইসমাইল ও শাহাদাত স্কুলশিক্ষক এমদাদকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপরই তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে সাহেব আটঘোলায় বুলুর বাড়িতে নিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, অপহৃত এমদাদ ওই বাড়িতে আটক থাকা অবস্থায় তার খাবার আসত পাশের গ্রামের আকরামের বাড়ি থেকে। আর এই পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করত মোশারফের আরেক সহযোগী ইসমাইল। অপরদিকে মুক্তিপণের বিষয়টি নিয়ে অপহৃতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করত আরেক অপহরণকারী রাজ্জাক। যার অবস্থান ছিল সিরাজগঞ্জে। অপহরণকারীদের সঙ্গে অনেক দেনদরবারের পর মুক্তিপণ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়। অপহণকারীরা ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুক্তিপণের টাকা প্রদানের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তিপণ প্রদানে ব্যর্থ হলে কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানালে তারা অপহৃতকে মেরে ফেলার হুমকিও প্রদান করে।

এদিকে, ২ সেপ্টেম্বর অপহৃতের পরিবার একটি অভিযোগ দেন র‌্যাব-৫ এর দফতরে। এর পরই অপহৃতকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-৫ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার অপহৃত ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মেশারফ ওরফে জামানকে আটক করে র‌্যাব। এরপর মোশারফকে নিয়ে অন্য অসামিদের গ্রেফতার করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনাকালে অপহরণকারী ইসমাইল র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তার অন্য সহযোগীদের অপহৃত এমদাদকে হত্য করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু র‌্যাব-৫ এর এএসপি জামাল আল নাসেরের নেতৃত্বে একটি অপারেশন দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপহৃত ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হককে শিকল দিয়ে আটকানো অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে। এ সময় বুলু, শাহ আলম ও রাজ্জাককে আটক করা হয়।

জেআই