মেলায় না আসলে ধারনাই করা যায়না বাংলাদেশে এত বাহারি নামের হরেক রকমের মাছের বসবাস। কালা মৌরি, চম্পা, রঙিলা, চাঁপা, কামিলার মতো সুন্দর নাম যেমন আছে, তেমনি আছে কাউয়া, দুইধ্যা, শিং ওয়ালা বিচ্ছু, হাউলা, হিচিরি, উড়াল বিচ্ছুর মতো দুষ্টু-মিষ্টি নাম। তাদের বাস সাগরে। এখন দেখা মিলছে ইট কাঠের এই নগরে। তবে জীবিত নয়। বোতলে সংরক্ষিত অবস্থায়।
যদিও মাছে ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য আমরা ভুলে যেতে বসেছি, তারপরেও মেলায় আসলে খানিকটা সে ঐতিহ্যের কথা মনে পরে যায়।
রাজাধানীর খামার বাড়িতে চলমান মৎস্য মেলায় আরও দেখা মিলবে স্কুইড, সাগর শসা, অক্টোপাস, ঈগল, টিকটিকি, হরিণা চিংড়ি, রাজ কাঁকড়া নামের অদ্ভুত ও দুর্লভ অনেক মাছ।
শুধু বোতলে সংরক্ষিত নয়, তরতাজা বিভিন্ন প্রজাতির মাছও রয়েছে মেলায়। গলদা, বাগদা, টাইগারসহ নানা প্রজাতির চিংড়ি এবং চিত্রা, পাবদা, শিল কাঁকড়া, টেংরা, পুঁটি, কৈ, গুলসা, কুচিয়া, শিং, মাগুড়সহ মিঠাপানির ছোট-বড় মাছ মেলার কৃত্রিম আধারগুলোতে মনের আনন্দে সাঁতার কেটে চলছে। তেলাপিয়া, কার্প, শিংসহ অনেক মাছের রেণু পোনাও বেচাকেনা হচ্ছে এখানে।
শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মেলায় লোক সমাগম ছিল প্রচুর। ছোট ছেলেমেয়েরা আগ্রহ নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মাছের সঙ্গে পরিচিত হয়। মাছ কি খায়, কেমন করে পানিতে জীবন কাটায়—সেসব জেনেছে তারা।
কথা হয় মোহাম্মদপুর থেকে আসা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শাওলী শারমিনের সঙ্গে। বাবার সঙ্গে আসা শাওলী জানায়, বাসায় বাজার থেকে মাছ আনা হলে সেগুলো জীবিত থাকে না। এখানে সে অনেক মাছ দেখেছে, যাদের আগে দেখেনি। টেলিভিশনে কাঁকড়া দেখলেও কখনো সরাসরি দেখা হয়নি। মেলায় কাঁকড়া দেখে সে খুবই উত্তেজিত। শাওলী আরও বলে, কাল স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে গল্প বলা যাবে।
রিদম পড়ে প্রথম শ্রেণিতে। বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে এসেছে। তার জানার আগ্রহে বাবা ইনামুল হক বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, তার বেড়ে ওঠা গ্রামে। তখন নদীতে প্রচুর মাছ মিলতো। বর্ষায় ক্ষেতের আলে ফাঁদ পেতে কতো মাছ ধরেছেন। এখন তার সন্তান বলতে গেলে মাছ চেনেই না। তাই মেলায় নিয়ে এসেছেন। দেশের মৎস্য সম্পদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে।
‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, পাল্টে দেবো বাংলাদেশ’ স্লোগানে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত মেলাটি চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
ইমন





