বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও কক্সবাজারের ঘুমধুম সীমান্তে গুলিবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি)।
মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ৩ দফায় আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতিবাদ জানানোর একদিনের মাথায় সীমান্তে এ ঘটনা ঘটল।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গুলিবর্ষণের পরপরই কক্সবাজারের ঘুমধুম এবং বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির তুমব্রু ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি গুলি তুমব্রুর উত্তরপাড়ার আবদুল করিম সওদাগরের টিনের চাল ভেদ করে ঘরে পড়ে।
তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, “তুমব্রু বাজারে গুলি এসে পড়ায় স্থানীয়রা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা কয়েকটি গুলি উদ্ধার করে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে জমা দিয়েছি।”
এ বিষয়ে বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান বলেন, “মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সন্ধ্যায় তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কয়েক রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করেছে।”
তিনি বলেন, “স্থানীয়রা এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে আমাদের ক্যাম্পে দিয়ে গেছে। পরে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”
এদিকে রোববার সকাল থেকেই তুমব্রুর ঘুমধুম সংলগ্ন ওপারের ঢেকুবনিয়ার গ্রামগুলো থেকে আগুনের ভয়াবহ কুণ্ডলি দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
রোহিঙ্গা ভিশন টিভি জানিয়েছে, রোববার ভোর মংডু জেলার বালুহালি ও ফাওহালি গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। সকাল ১০টার দিকে তারা অন্য একটি গ্রামে আগুন লাগায়।
এ ঘটনায় আরও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা রোববার প্রাণভয়ে সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান নিয়েছে।
এমবি





