পুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতার দিক থেকে কাজু বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

এতে উপস্থিত প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কপার, ক্য়ালসিয়াম, ম্য়াগনেশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, জিঙ্ক এবং আরও নানাবিধ খনিজ এবং ভিটামিন নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে।

শুধু তাই নয়, কাজু বাদামে ভিটামিনের মাত্রা এত বেশি থাকে যে চিকিৎসকেরা একে প্রাকৃতিক ভিটামিন ট্যাবলেট নামেও ডেকে থাকেন। তবে একথাও ঠিক যে মাত্রা ছাড়া এই বাদামটি যদি কেউ খায়, তাহলে কিন্তু শরীরের উপকারের থেকে অপকার হয় বেশি।

কারণ উপকারি উপাদান বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে উল্টো ফল হতে শুরু করে। তাই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে কাজু বাদাম, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যদি ৩-৪ টি করে কাজু বাদাম খাওয়া যায়, তাহলে শরীরে নানা পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে আরও কিছু উপাকার পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪টি বা ২৮ গ্রাম কাজু বাদামে ৩ দশমিক ৫ গ্রাম ফাইবার, ৬ গ্রাম প্রোটিন এবং ৯ গ্রাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়। প্রতিদিন মাত্র ৪ টি করে কাজু বাদাম খেলে শরীরের যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. কাজু বাদাম শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। সেই সঙ্গে ভাল কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়। ভাল কোলেস্টেরল বাড়লে শরীরের নানা জটিলতা বিশেষ করে হৃদরোগ , স্ট্রোক এবং ধমনী সংক্রান্ত সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।

২. কাজু বাদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে যা চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। চুলের বৃদ্ধির জন্য এতে ম্যাগনেশিয়াম এবং জিঙ্কও রয়েছে। কাজু বাদামে থাকা ভিটামিন ই মানসিক চাপ কমায়। সেই সঙ্গে চুলের বৃদ্ধি ঘটায়।

৩. কাজু বাদামে উপস্থিত ভিটামিন ই এবং ম্যাঙ্গানিজ ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করে।

৪. কাজু বাদামের খোসা প্রিবায়োটিকের দারুণ উৎস যা অন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। এটি হজমশক্তিও বৃদ্ধি করে। এছাড়া ভাল ব্যাকটেরিয়া যেকোন ধরণের সংক্রমণ সারাতেও দারুণ ভূমিকা রাখে।

৫. যদিও কাজু বাদামে ফ্যাট এবং ক্যালরি আছে তারপরও এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কাজু বাদাম খেলে পেট ভরা অনুভূত হয় । তখন বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে।

৬. গবেষণা বলছে, কাজু বাদামে থাকা ভিটামিন ই বয়সজনিত ভুলে যাওয়া রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায়। সূত্র: এইচএইচডিরিসার্স

 

এএস