কমিটির কাঠামো ও সদস্য বণ্টন:

সংসদে আইনমন্ত্রী জানান, সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংসদে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্বের অনুপাত (২৬ শতাংশ) অনুযায়ী, তাদের পক্ষ থেকে আরও ৫টি নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিরোধীদল চাইলে আমরা আগামীকালই (বৃহস্পতিবার) এই কমিটি গঠন করে জুলাই সনদের আলোকে কাজ শুরু করতে পারি।”

সংশোধন বনাম সংস্কার: বিরোধীদলের অবস্থান

সরকারের পক্ষ থেকে ‘সংশোধন’ (Amendment) শব্দটির ওপর জোর দেওয়া হলেও বিরোধীদল শুরু থেকেই সংবিধান ‘সংস্কার’ (Reform) বা পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। আইনমন্ত্রীর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের মধ্যে কিছু ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে। আমরা সংশোধন নয়, সংস্কার চাই। এই প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন আছে, তাই আমরা এখনই নাম দিচ্ছি না।”

শফিকুর রহমান আরও প্রস্তাব করেন, কমিটিতে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকা উচিত যাতে মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে।

জুলাই সনদ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ সরকারি দলের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়। জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক বিধান নিয়ে কাজ করার জন্য ১৩তম সংসদের সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা (সাংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য) পালনের কথা ছিল। যদিও এখন পর্যন্ত পৃথক ‘সংস্কার পরিষদ’ আহ্বান করা হয়নি।

এর আগে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়লাভ করে। তবে বিএনপি এই সনদের কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে ভিন্নমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোট পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিরোধীদলের সিদ্ধান্তের জন্য সরকার পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছে। তবে জুলাই সনদের আলোকে সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

এমএম