বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অবস্থানরত প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে কঠোর অবস্থান থেকে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
বিদেশিদের নিরাপত্তা দেওয়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে প্রতিষ্ঠানসমূহকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ।
এর পাশাপাশি নগরীর যেসব এলাকায় বিদেশি নাগরিকরা বসবাস করেন এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে অধিক সংখ্যায় বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন ওইসব এলাকায় কঠোর পুলিশি নজরদারি শুরু হয়েছে।
বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। সাদা পোশাকে গোয়েন্দারাও তৎপর রয়েছে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্নস্থানে সারপ্রাইজ চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশিও চালাচ্ছেন পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি নাগরিক খুন হওয়ার পর চট্টগ্রামে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পুলিশের এই সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন চট্টগ্রাম কতোজন বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে জানা না গেলেও হাল নাগাদ তথ্য চেয়ে বিদেশি নাগরিকদের কর্মরত প্রতিষ্ঠানসমূহে চিঠি দিয়ে হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। নগর পুলিশের বিশেষ শাখা এই ব্যাপারে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামে দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্র বন্দর হওয়ায় এখানে ব্যবসা ও চাকরির কারণে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি-বিদেশি নাগরিক অবস্থান করেন। এসব নাগরিকদের বেশিরভাগের বসবাস নগরীর খুলশি, পাঁচলাইশ, বন্দর, ইপিজেড এলাকায়। এর মধ্যে অভিজাত খুলশি এলাকাতেই বসবাসকারীর সংখ্যা বেশি।
এই বিষয়টি বিবেচনা করে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় খুলশি আবাসিক এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের যেসব থানায় বিদেশি নাগরিকদের বসবাস ও কর্মস্থল সেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল।
পুলিশ জানায়, বিদেশি নাগরিকদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক চলাচলে কোন বিঘœ না ঘটিয়ে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া ঢাকা ও দেশের বাইরে থেকে যেসব বিদেশি নাগরিক চট্টগ্রামে এসে সাময়িক সময় অবস্থান করেন তাদের নিরাপত্তায়ও পুলিশ সতর্ক হয়েছে।
নগরীর পেনিনসুলা, রেডিসন, আগ্রাবাদ, ওয়েলপার্কসহ নগরীর যেসব হোটেলে বিদেশিরা অবস্থান করেন সেসব হোটেলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষকেও বিদেশি নাগরিকদের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঢাকায় ইতালি নাগরিকের পর রংপুরে জাপানি নাগরিক খুন হওয়ার খবরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু কর পুলিশ।
গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সারপ্রাইজ চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। নগরীর কমপক্ষে ৩০টি স্পটে পুলিশের এই সারপ্রাইজ চোকপোস্ট রয়েছে নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এমআর





