নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে শত শত গরু আসছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্ত এলাকা এখন গরু পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী দল ও তাদের গডফাদারদের অপতৎপরতায় গরু চোরাচালান। অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এলাকাবাসী বলেছেন।

গত ১ সপ্তাহে গরু পাচারের সময় ইছাহাক, মমিনুল ও নুরুল ইসলাম নামের তিন গরু ব্যবসায়ীকে বিএসএফ ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করে বিজিবির সদস্যরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি বিশেষ মহল চোরাপথে ভারত থেকে প্রতি রাতে ওই সীমান্ত দিয়ে বিপুল সংখ্যক গরু-মহিষ পাচার করছে। সরকার এ সকল গরু-মহিষ থেকে রাজস্ব না পেলেও স্থানীয় দু’জন লাইনম্যান নামধারী গডফাদার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম ভাঙিয়ে চোরাচালানকারীদের কাছ থেকে প্রতি জোড়ার জন্য দেড় হাজার টাকা করে আদায় করছে।

সুত্র মতে ভারতের বটতলী, পাকুয়াহা, টুঙ্গিপাড়া এলাকার মহাজনরা কমিশনের ভিত্তিতে প্রতি রাতে বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীদের গরু-মহিষ সরবরাহ করে থাকে। ভারত থেকে এক জোড়া গরু বা মহিষ পাচার করে সীমান্ত অতিক্রম করে এ দেশে আনতে পারলে মহাজনের কমিশন ও দাম বাদ দিয়ে লাভ হয় দ্বিগুন। অধিক লাভের আশায় বিভোর হয়ে এলাকার উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবকরা চোরাচালানকারীদের নিযুক্ত লাইনম্যানের সহায়তায় রাত হলেই দল বেঁধে ছুটছে হাপানিয়া সীমান্তের কৃষ্ণসদা পুলের গ্রামের শেষ প্রান্তে।

গত সপ্তাহে বিএসএফের নির্যাতনে ইছাহাক (১৯), মমিনুল (২০) ও নুরুল ইসলাম নামের তিন যুবকের মৃত্যু হয়। মমিনুল সাপাহার উপজেলার কুলমু ডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গরু নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। পর দিন স্থানীয় নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বিজিবি’র সদস্যরা। সে কুলমু ডাঙ্গা চৌমনী গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। এদিকে একই গ্রামের বাসিন্দা ইছাহাককে এ ঘটনার একদিন আগে বিএসএফ হত্যা করে লাশ স্থানীয় পুনর্ভবা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। লাশ ভেসে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আসে। সেখান থেকে তা উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির পত্নীতলা ১৪ কমান্ডিং অফিসার সাইফ উদ্দিন জানান, কোরবানী ঈদকে ঘিরে চোরাচালানকারীরা তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে মাঝে মাঝে বিএসএফ আগ্রাসি আচরণ করছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

সীমান্ত গ্রামগুলো নদী তীরে হওয়ায় চোরাকারবারীদল নৌকা ব্যবহার করছে। প্রতি রাতে শত শত গরু-মহিষ ভারত থেকে নিয়ে এসে কৃষ্ণসদা গ্রামে লুকিয়ে রাখা হয় ও সুযোগ বুঝে তা নদী পার করে হাপানিয়া, বেলডাঙ্গা, বিরামপুর, কামাশপুর, আদমা, পলাশডাঙ্গা, শিয়ালমারীসহ পাশের সীমান্ত ঘেষা গ্রামগুলোতে রাখা হয়। পরে সেগুলো দীঘির হাট, উমইলহাট, সাপাহারহাট, গাঙ্গুরিয়াহাট, মধইলহাটে তোলা হয়।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত সংলগ্ন গরুর হাটগুলোতে বর্তমানে ভারতীয় গরু-মহিষের আমদানি ও বেচা কেনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম ,জেআই