অবশেষে থাইল্যান্ড থেকে দেড় লাখ টন চাল কিনতে যাচ্ছে সরকার। প্রতি টন নন- বাসমতি সিদ্ধ চাল ৪৬৫ ডলারে কেনা হচ্ছে।
থাইল্যান্ড থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল কেনার প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছে।
দেড় লাখ টন চাল কিনতে লাগছে ৫৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে চাল কিনতে জুলাই মাস থেকে চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু বাংলাদেশে চাল সংকটের কারণে সুযোগ বুঝে বেশি দাম হাঁকছিল দেশটি।
ফলে বিষয়টি বার বার পিছিয়ে যায়। তবে সিদ্ধ চাল কেনায় থাইল্যান্ড দর কমানোর কারণে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল কিনতে এখন আর কোনো বাধা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে জরুরি চাল আমদানির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় গত ৬ ও ৭ই জুলাই থাইল্যান্ড সফর করে দুই সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। ওই সময় চাল আমদানির বিষয়ে থাইল্যান্ড সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা।
থাই সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে মূল্য নির্ধারণ ছাড়া একটি খসড়া চুক্তি দুই পক্ষের সম্মতিতে প্রণয়ন করা হয়। ওই সময় দুই পক্ষই ২৩শে জুলাই চালের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা/ নেগোসিয়েশনের জন্য ঢাকায় সভা করতে সম্মত হয়।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী থাইল্যান্ড সরকারের ডিপার্টমেন্ট অফ ফরেন ট্রেড (ডিএফটি)-এর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে এবং জিটুজি পদ্ধতিতে ক্রয় বিষয়ক কমিটির নেগোসিয়েশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় থাই কর্তৃপক্ষ প্রতি টন সিদ্ধ চাল ৫১৬ ডলার মূল্য প্রস্তাব করে।
পরে প্রতি টন ৫০৬ ডলার দাবি করে বাংলাদেশকে ২৭শে জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি টন ৪৩০ ডলার প্রস্তাব করা হয়। সভা শেষে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ এগ্রিড মিনিটস অফ দ্য মিটিং স্বাক্ষর করে।
এরপর থাই সরকারের বেঁধে দেয়া ২৭শে জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ কোনো সাড়া দেয়নি। ৩রা আগস্ট থাই কর্তৃপক্ষ তিন ক্যাটাগরির চালের পরিমাণ উল্লেখ করে মূল্য কমিয়ে একটি প্রস্তাব পাঠায়। ওই প্রস্তাবে অফার ভ্যালিডিটি ৮ই আগস্ট পর্যন্ত থাকবে বলে জানায়। তবে থাই কর্তৃপক্ষের নতুন দরও বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ কোনো সাড়া দেয়নি।
এমন অবস্থায় ১৬ই আগস্ট থাই কর্তৃপক্ষ একটি তাগিদপত্র পাঠায়। তাগিদপত্র পাওয়ার পর থাইল্যান্ড রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সরকার ১৪ই সেপ্টেম্বর নতুন করে চিঠি পাঠিয়ে থাই সরকারের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানায়।
তবে থাই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে সফর করতে অপারগ বলে জানায়। এরপর ২৪শে সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে থাইল্যান্ড থেকে দেড় লাখ টন চাল কেনার দর নিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় প্রতি টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ৪৬৫ ডলার দরে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি থাইল্যান্ড সরকারকে জানালে তারা দেড় লাখ টন চাল রপ্তানি করতে সম্মত হয়। এ জন্য প্রস্তাবটি দুই মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠিয়ে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ধানের বাম্পার ফলনের কারণে বাংলাদেশ চালের ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে।
এ বছর আকস্মিকভাবে হাওর এলাকায় পাহাড়ি ঢলে অনেক এলাকায় বোরো জমি তলিয়ে গেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অকাল বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, নেকব্লাস্ট রোগ, পাহাড়ি ধস এবং বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত চাল আমদানির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এজন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি জিটুজি পর্যায়ে চাল আমদানির উদ্যোগ ও কার্যক্রম নেয়া হয়।
জেড





