বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধে নওগাঁর প্রায় ৮০ ভাগ চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বেকার হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মিল মালিক ও চাল ব্যবসায়িরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় দুই হাজার চালকল রয়েছে। এ সব কলে প্রতিদিন চাল উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন। উৎপাদিত চালগুলো সরবরাহ করা হয় রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারে। কিন্তু অবরোধ ও হরতালে ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ আছে চাল সরবরাহও।

নওগাঁ শহরের সুলতানপুর এলাকার সুফিয়া অটোমেটিক রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম নাথু জানান, অবরোধের কারণে তারা চাল মিলে ধান আনতে পারছেন না। আমন মওসুমের শুরুতে মিলে যে ধান আনা ছিল, সেগুলো ক্রাশিং করে চাল উৎপাদন করা হয়েছে। তাই ধানের অভাবে এরই মধ্যে তার মিল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, মিলের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ব্যাংক ঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয়সহ প্রতিদিন প্রায় এক লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।
এলাকার প্রতিটি মিলারদের একই অবস্থা বলে জানান শফিকুল ইসলাম।

নওগাঁর জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম বাবু জানান, অবরোধের প্রভাবে জেলার প্রায় ৮০ ভাগ চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। কলগুলোতে সব মিলিয়ে শ্রমিক রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। এদের প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমিক দিনমজুর হিসেবে চাতালে ধান শুকানোর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নওগাঁ জেলা ধান ও চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোদ বরন সাহা চন্দন জানান, জেলায় চাল ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। কম বেশী সবাই ব্যাংক লোনের উপর নির্ভর। অবরোধে চাল সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় বছরের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনে দেশের চালের বাজারের জন্য অশনি শংকেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারগুলোতে চালের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পাওয়ার শতভাগ আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি জানান, আড়তদার ও চাল ব্যবসায়ীদের লোকসান ধরলে প্রতিদিন মাঝারি আকারের একজন ব্যবসায়ীকে অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জেআই