বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে যমুনার পানি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদ সীমার ৬৮সে.মি ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ও ১ শিশু নিখোঁজ রয়েছে। বন্যার্তদের মধ্যে কোনো ত্রাণ তৎপরতা না থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে। বন্যার পানি উঠায় চরাঞ্চলের ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এ সব স্কুলে অঘোষিত ছুটিতে লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে।
স্থায়ী জনসাধারণ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা নদীর চরের অনেক গ্রামে নতুন করে পানি ঢুকে পড়েছে।
এ পর্যন্ত চালুয়াবাড়ী, কাজলা, হাটশেরপুর, সদরের কিছু অংশ, কর্নিবাড়ী, বোহাইল, চন্দনবাইশা ও কামালপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ২৫হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
গত চার দিন চরের হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হলেও সরকারি বা বেসরকারিভাবে বন্যার্তরা কোনো সাহায্য পাননি।
চকরতিনাথ চরের আজিজার, আব্দুল খালেক, ছহির উদ্দিন, নয়াপাড়া চরের কালাম শেখ জানান, ৪ দিন ধরে পানি বন্দি থাকায় আমরা গরু, ছাগল, হাঁস মুরগী, ছেলেমেয়ে নিয়ে খাদ্যভাবসহ বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে ভুগছি।
নয়াপাড়া, দিঘাপাড়া, কাশিরপাড়া, শিমুলতাইড়, চকরতিনাথ, করমজাপাড়া, চরকর্নিবাড়ী, নান্দিনার চর, বেঁড়াপাচবাড়িয়া, টেংরাকুড়া, পাকেরদহসহ ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২/৩ফুট করে পানি ঢুকে পড়ায় ছাত্র/ছাত্রীরা স্কুলে আসা ছেড়ে দিয়েছে। পানিতে ডুবে কাজলা ইউনিয়নের জামথল গ্রামের মোসলেম উদ্দীনের অজ্ঞাতনামা শিশু ও চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আল সাকিল(৭) পাকের দহ গ্রামের মোখলেছারের মেয়ে শিখা (৮) গোসল করতে নেমে পানিতে নিখোঁজ হয়েছে।
এছাড়া যমুনার ভাঙনে ধলিরকান্দি থেকে রৌহদহ পর্যন্ত চার কি.মি. বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকীর মুখে পড়েছে। যে কোনো মুহুর্তে ভেঙে পানি বিল এলাকায় প্রবেশ করতে পারে। এখনও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে ধূনটে কিছু ত্রাণ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্যা কবলিত সব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
ঢাকা, ২১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





