জেলা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

আহত ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হামিদ, মাসুদ রানা  ও বনি ভূঁইয়াকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে তা সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ চত্বর, পোস্ট অফিস মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এসময় পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বিবাদমান দু’গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ে। পরে খণ্ড খণ্ডভাবে এ সংঘর্ষ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শাখা কমিটি গঠন নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও কোন্দল চলে আসছিল। সম্প্রতি গোপালগঞ্জ সদর, শহর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে এ কোন্দল আরও চরমে ওঠে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা, শহর ও কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন পদবঞ্চিতরা। তারা নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনে মাঠে নামেন। শহরে একাধিক শো ডাউন করেন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপও পাল্টা জবাবে আলাদা শো ডাউন করেন। এরই অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার আলাদা আলাদাভাবে দুই গ্রুপ শহরে মিছিল বের করেন। স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় মিছিল দুটি মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।

ছাত্রলীগ নেতা মো. জাহিদ মুন্সী ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটি ‘গঠনতন্ত্র পরিপন্থী’ উল্লেখ করে বলেন, সকলের মতামত নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়নি। তিনি নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানান।

জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেয়াজুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, জেলা ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী নতুন আহবায়ক কমিটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের নিজেদের ইচ্ছামাফিক সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কমিটি ঘোষণা করায় আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ করেছি।

সম্মেলনের মাধ্যমে যেহেতু এ কমিটি গঠন করা হয়নি তাই ঘোষিত কমিটি বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে তো আর পদ দেওয়া যায় না। এ ছাড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে, সকলের সম্মতি নিয়েই আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের ঘটনা ‘অনাকাঙ্খিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গোপালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন মোল্যা জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেআই