টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজার জেলাব্যাপী প্রবল বন্যা ও নদীভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। সে সাথে বেড়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি। উখিয়ার পালংখালীর আনজুমানপাড়ায় দেয়ালচাপায় ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার সন্ধায় এই ঘটনাটি ঘটে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া ফকিরপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে চেমন খাতুন (৫৫) নামে বয়োবৃদ্ধ মহিলার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার বিকালে পাহাড় ধসের ঘটনাটি ঘটে। নিহত চেমন খাতুন ওই এলাকার আব্দুল মাজেদের স্ত্রী। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পাহাড়ের মাটি এসে পড়ায় কলাতলী মেরিনড্রাইভ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে গেছে সড়কের দুই পাশের অনেক গাছপালা। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকার মানুষজন নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবন্দি মানুষজন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাও। সব মিলিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্কদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ যোগাযোগ।
মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে কক্সবাজারের সঙ্গে উখিয়া ও টেকনাফের যানবাহনগুলো চলাচল করছে। জেলার অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জেলার বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
খাবার পানি সংগ্রহ করতে পানিবন্দি মানুষজনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আন্তঃ সড়কগুলো। ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধসহ অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট।
এভাবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৪ লক্ষাধিক মানুষ। মাতামুহুরী, বাঁকখালী ও ঈদগাঁও নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ।
আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকেই অতি ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে ১৯৭ মিলিমিটার।
তিনি আরো জানান, গত চারদিনে মোট ৫৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাত কমতে পারে।
জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন জানান, গতকাল বন্যাকবলিত এলাকার মধ্যে চকরিয়া ও কক্সবাজার সদরে ১০০০ খাবার প্যাকেট ও নগদ ২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে জেলার আশ্রায়নকেন্দ্রসমূহ। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছে। প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে টানা অতি বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের আকাশে এসেও অবতরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট। একই অবস্থায় পড়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছে রিজেন্ট এয়ারের অপর একটি বিমান।
শিডিউল মতো বুধবার দুপুরে ফ্লাইট দুটি যাত্রী ওঠা-নামা করতে কক্সবাজার এসেছিল বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মোহন্ত।
বিকেল পৌনে ৬টায় রিজেন্ট এয়ারের বিমানটি কক্সবাজার এসে যাত্রী ওঠা-নামা করে ফিরে গেলেও বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। ঢল ও বৃষ্টির পানিতে নিুাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
রাস্তাঘাট ভেঙে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ। এতে জেলার কয়েকলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
তলিয়ে গেছে কৃষি ফসল ও চিংড়ি ঘের। তবে যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।
জেড





