মাগুরাতে এ বছর লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ হেক্টর বেশি জমিতে সরষে চাষ। হাঁসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। সামান্য পরিচর্যা আর কম খরচে সরষে চাষে লাভের আশা করছেন চাষিরা। হেক্টরপ্রতি ১.৩ মেট্রিক টন সরিষা আবাদ হবে বলে আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সদর উপজেলাসহ ৪ উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চাষ হয়েছে ২৩ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে ১০ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১১শ’ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

গত বছর ১২ হাজার ৫শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা, দক্ষিন মির্জাপুর, হাজিপুর, রাঘবদাইড়, শ্রীপুর উপজেলার নকোল, কমলাপুর, খামারপাড়া, বরিশাট গোপালগ্রাম, মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী, নোহাটা, রাজাপুর এবং শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর, আড়পাড়া এবং সিমাখালিসহ বহু এলাকায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরষে আর সরষে। আমন ধান কাটার পর জমি কিছুদিনের জন্য পরিত্যক্ত থাকে। আর সে জমিতেই অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরষে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। সামান্য পরিচর্যা আর অল্প খরচে চাষাবাদ করা যায় বলে দিন দিন জনপ্রিয়ও হয়ে উঠছে সরষের চাষ। দেশীয় জাতের পাশাপাশি রয়েছে উন্নত জাতের বিনা ও বারী সরিষা। এ সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে এবং রোগবালাই না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

মাগুরার শ্রীপুর এলাকার সরষে চাষি জহিরুল জানান, তার দেড় বিঘা জমিতে সরষে চাষ করতে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। শুধু বীজ ও সামান্য সার দিলেই সরষে আবাদ করা যায়। ফলন পাওয়া যায় বিঘাপ্রতি সাত মণ থেকে সাড়ে সাত মণ যার বাজারমূল্য মণপ্রতি প্রায় ২০০০ টাকা।

তিনি আরো জানান সাাথী ফসল হিসেবে পেঁপেঁ গাছের ভিতরে ও সরিষে চাষ করছি, বেশ লাভবানই হবো বলে আশা করছি মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহিদুল আমিন বলেন,‘সরষে চাষে কৃষকরা যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন,তা খুবই ইতিবাচক। যা কৃষি ক্ষেত্রে আরেকটি সাফল্য। চাষাবাদে খরচের পরিমাণ কম, পানি একবার দিলেই হয়। মাত্র ৭০ দিনে ফসল উৎপাদন হয়।’

সাইফুল্লাহ/এএস