রাজশাহী-৪ আসনের এমপি ও এনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান এবিএম এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২৮০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অর্থাৎ অবৈধ সম্পদ এবং ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুদকে জমা দিয়েছেন উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়।
আজ মঙ্গলবার বিকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট শাখায় অনুসন্ধানী কর্মকর্তা যতন কুমার রায় এ প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ সালের ২৬(২) ২৭(১) ধারায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাস মোবাইলে দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায়কে হাওয়া করে ফোলার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে দুদক কর্মকতা যতন কুমার রায় ওই দিনই রাজধানীর রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৭৭৭) করেছেন। কিন্তু ওই হুমকিতে কাজ হয়নি এনামুল হকের। হিতে বিপরীত হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা জানান, এমপি এনামুল হকের ২ হাজার ১২০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। এনামুল হক এমপি ২০০৮-০৯ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নেও সময় এ সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
তিনি বলেন, এরমধ্যে তার ব্যক্তিগত এবং কোম্পানীর সম্পদ রয়েছে। আর কোম্পানীর অভ্যান্তরিণ অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ‘দ্য প্রিপারেশন অব দিস ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস ইজ দ্য রেসপন্সিবিলিটি অব দ্য কোম্পানিস ম্যানেজমেন্ট’। কোম্পানীর নিট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু তিনি আয়কর দিয়েছেন ৮৭ লক্ষ টাকার। বাকি ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেন এবং ট্যাক্সও ফাঁকি দেন।
অনুসন্ধানকালে এমপি এনামুল হকের (নিজস্ব) বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা কোম্পানীর ৮৩ কোট ১৩ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা গোপন/জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।
পরে যাচাই বাছাই করে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২৮০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার তথ্য গোপনের উপর প্রতিবেদন জমা দেন।
গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হলফনামায় তাদের সম্পদের অসংগতির তথ্য রয়েছে। এবিষয়ে গত ২২ জানুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে কমিশন সভায় ৭ সাবেক মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও এমপি’র বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের ৭ কর্মকর্তা আলোচিত সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান এমপিদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার দায়িত্ব দেয়।
দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তারা আলোচিত ব্যাক্তিদের সম্পদের তথ্য উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দুদক কর্মকর্তারা রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পদের হিসাব নির্ণয় করেছেন।
একই সঙ্গে নোটিশ পাঠিয়ে তাদের সম্পদের বিবরণী সংগ্রহ করেন। হলফনামা, তাদের সম্পদ বিবরণী এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনিদিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাচ্ছেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তারা।
ঢাকা, একে, ১৬ সেপ্টম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





