বখাটের উৎপাত সইতে না পেরে অষ্টম শ্রেণীর একজন ছাত্রী আত্মহননের চেষ্টা করেছেন। তবে গুরুত্ব অসুস্থ অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়ায় প্রণে বেঁচে গেছেন ওই ছাত্রী।
যশোরের শার্শায় ওই ঘটনার পর থেকে গত ৬ দিন ধরে হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন ওই স্কুলছাত্রী। এদিকে শার্শা থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শার্শার গাতিপাড়া গ্রামের তৈয়ব আলীর বখাটে পুত্র মোখলেছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সংখ্যলঘু পরিবারের সদস্য তপন বিশ্বাসের কন্যা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর কবিতা বিশ্বাসকে উৎপাত করতে থাকে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আব্দুল খালেকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বখাটে মোখলেছুর রহমানের পিতা তৈয়ব আলীকে বিষয়টি জানান। তবে বিষয়টি আমলে না নিয়ে তৈয়ব আলী স্থানীয়দের জানায় আমার ছেলেকে শাসণ করতে পারছি না।
এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাতিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কবিতা বিশ্বাস দুপুরে ফেরার পথে রাস্তায় হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। এ সময় সে চিৎকার শুরু করলে বখাটে মোখলেছুর স্থান ত্যাগ করে।
ওইদিন বিকালে কবিতার প্রতিবেশী এক স্কুলছাত্রীর কাছে একটি মোবাইল ফোন জোর পূর্বক দিয়ে কবিতাকে দিতে বলে। ওই স্কুলছাত্রী মোবাইল নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেও মোখলেছুর এসিড মারার হুমকি দেয়।
পরে ওই ছাত্রী কবিতার কাছে মোবাইল দিতে গেলে সে নেয়নি। তখন ওই ছাত্রী কবিতাকে জানায়, “মোখলেছুর বলেছে- মোবাইলে তার সাথে কথা না বললে কাল স্কুলে গেলেই এসিড দিয়ে ঝলছে দিবে”। এ কথা শুনেই কবিতা ঘরের মধ্যে গিয়ে হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
তাকে আহতাবস্থায় প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা দিলে তার অবনতি ঘটলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসার অবনতি হলে চিকিৎসকরা অন্যত্র নিতে বললে অর্থের অভাবে কবিতার গরিব মা-বাবা আবারো তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কবিতার পিতা তপন বিশ্বাস জানান, বখাটে মোখলেছুরের স্বজন খোরশেদ আলী কবিতার পরিবারকে হুমকি দিয়ে বলেছে- এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ী করলে খৃীষ্টান পরিবারের কাউকে ছাড়া হবে না।
কবিতার পিতা তপন বিশ্বাস আরো জানান, শার্শা থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাইমনিউজবিডি’কে জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক আহত স্কুলছাত্রী কবিতার শারীরীক খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
তার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি এবং অভিযুক্ত আসামিকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসএন/ এআর





