সিলোকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম বুড়িমারী স্থলবন্দরে মজিবর রহমান (৫০) নামে এক শ্রমিকর মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

মৃত্যুর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সিলোকোসিসে আক্রান্ত রোগীদের মাঝে। মঙ্গলবার নুরুজাম্মান আহম্মেদ (৩৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা বামনদল এলাকার সেরাজ উদ্দিনের ছেলে। নুরুজ্জামানের স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারামার বামনদল এলাকার নিজ বাড়িতে বুধবার সকালে মৃত্যু হয় শ্রমিক মজিবর রহমানের। তার বাবার নাম মৃত ইয়াকুব আলী। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মঙ্গলবার নুরুজ্জামান নামের এক শ্রমিক সিলোকোসিস রোগে মারা যান। বুধবারও খবর পেয়েছি, একই রোগে মজিবর রহমান নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিষয় দুটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পাটগ্রাম হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাথর গুঁড়া করার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মাঝে সিলোকোসিস রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ঢাকার ‘বিলস’ নামের একটি সংগঠনের চিকিৎসা ও সহযোগিতা ছাড়া আর কেউ অসহায় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।

মজিবরের স্ত্রী আঞ্জু আরা বেগম বলেন, ‘ঢাকার লেবার স্টাডিজ অব বাংলাদেশ (বিলস) নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সাহায্যে কিছুদিন আমার স্বামী (মজিবর রহমান) চিকিৎসা পেয়েছেন। এ সংস্থার আগে তিনি রংপুরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।’

মজিবরের সহকর্মী মতিউল ইসলাম ও মোমিন আলী বলেন, ‘বুড়িমারী স্থলবন্দরের সেন্টু ও সিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামে পাথর ক্রাসিং কারখানায় ৪/৫ বছর ধরে কাজ করার পর সিলোকোসিস রোগে আক্রান্ত হন তারা। বর্তমানে তারাও এ রোগে ভুগছেন।’

জানা গেছে, এ পর্যন্ত ওই রোগে মজিবর রহমান (২৬ নভেম্বর) ও নুরুজ্জামানসহ (২৫ নভেম্বর) ৪১ রোগীর মৃত্যু হলো। এখনও মৃত্যুর আতঙ্কে রয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় বক্ষব্যধি হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানো দুলাল মিয়া নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ৩০ জুন বুড়িমারীর উফারমারা বামনপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন ওই রোগে মারা যান।

সিলোকোসিস রোগে এ পর্যন্ত মোট ৪১ জন প্রাণ হারালেন। তবে প্রায় চার বছর আগে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পর ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২১ শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। সবমিলিয়ে ওই রোগে ৬২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

জেআই