পুলিশসহ বিভিন্ন সেবাধর্মী সেক্টরে নিয়োগ দিয়ে হিজড়াদের সমাজের মূল স্রোতে অন্তর্ভূক্ত করার কথা ভাবছে সরকার।

হিজড়াদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়কে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।  

সমাজের জন্য কর্মমূখী কাজে হিজড়াদের নিয়োজিত করতেই সরকার এমন চিন্তা-ভাবনা করছে। হিজড়ারা যাতে নিজেদেরকে ঘৃণিত কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে পারেন এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হন সেজন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।  

এর আগে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নেতৃত্বে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আগামী বাজেটে অর্থ বরাদ্দ বিষয়ে আন্ত-মন্ত্রনালয়ের এক সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

অর্থমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এক কর্মকর্তা জানান, এমন প্রস্তাবের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে দেশে হিজড়াদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বিগত ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে হিজড়াদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

চলতি বাজেটেও হিজড়াদের জন্য ছিল সাড়ে ৪ কোটি টাকা যা ২৯ জেলায় অবস্থানকারী হিজড়াদের মাঝে ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়।

সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সের এক একজন হিজড়াকে প্রতিমাসে ৪০০ টাকা করে ভাতা দেয়া হয়। স্কুলগামী হিজড়াদের চার ধাপে ৩০০ থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেয়া হয়।

আন্ত-মন্ত্রনালয় সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় দেশের সর্বত্র যেসব হিজড়া রয়েছেন তাদের সবার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ আগামী বাজেটে এ সংক্রান্ত বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।

গত ২৯ এপ্রিল হিজড়া সম্প্রদায়ের ওপর বাংলা একাডেমি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুপন কান্তি শিল বলেন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগে হিজড়াদের ভেতর থেকে ১৪জনকে নিয়োগের বিষয়ে সরকার ভাবছে।

আগামী বছর দেশের ৩৫ জেলা থেকে ১৭২৫জন হিজড়াকে বাছাই করে তাদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব।

এছাড়া এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত যারা পড়াশুনা করছেন তাদেরকে বৃত্তি প্রদানের বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও আশস্ত করেন অতিরিক্ত সচিব রুপন কান্তি শিল।

কেবি