বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জিহাদি জঙ্গিবাদিদের উপুর্যপরি হামলার কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরাক সিরিয়া, লিবিয়া, মিশর, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো আজ বিপণ্য। তথাকথিত জিহাদিদের হামলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। জনগনের সম্পদ দখল করে নিচ্ছে। নারী ও শিশুদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে।

ভিন্নমতাবলম্বী মুসলিম অ-মুসলিম নারীদের দখলকৃত সম্পদ মনে করে দাসী হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের সাথে অবাধ যৌনাচার বৈধ বলে ফতোয়া জারি করে তরুণ যুবকদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে পথভ্রষ্ট করে তাদের দলে ভেড়াচ্ছে। অথচ ইসলাম কখনো তা সমর্থন করে না। ইসলামের সাথে নুন্যতম সম্পর্কও নেই। গণতান্ত্রিক ইসলামি ঐক্যজোট আয়োজিত সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের চেয়ারম্যান মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী এ সকল কথা বলেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন খলিফা মোহামামদ নুরুদ্দিন। বক্তব্য রাখেন আলহাজ কফিল উদ্দিন, মুফতি আতাউর রহমান মাদানি, মাওলানা শাহ নেয়ামতুল্লা, মাও. এনামুল হক আজাদ, এড.শেখ মোহাম্মদ শাকিল, কাজি মাসুদ আহমেদ, মাওলানা মসিউর রহমান, বাহাউদ্দিন সুজন, মাওলানা মঞ্জুর, মাওলানা আবু কাওসার, মো:এনায়েত হোসেন প্রমুখ।

তিনি বলেন, আইএস জঙ্গিদের প্রতিষ্ঠাতা ইঙ্গ-মার্কিন ইসরাইল ইহুদি সাম্রাজ্যবাদিরা। তারাই আইএসকে অতিদ্রুত উত্থানের লক্ষে তাদের কাছে অস্ত্র এবং গাড়ির বহর সরবরাহ করছে। তাদের প্ররোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমানদের হত্যা করছে। সাম্রাজ্যবাদি চক্র ইসলামের নাম ব্যাবহার করে মুসলমানের ছদ্দবেশ ধারণ করে মুসলমানদের ক্ষতি সাধন করতে এবং ইসলামকে ধ্বংস করতে আইএস-সহ সকল জঙ্গিবাদি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদি ও সন্ত্রাসি কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে এবং মুসলিম বিশ্বের সম্পদ আত্মসাত করছে। এ সকল হত্যাকান্ডের জন্য সাম্রারাজ্যবাদীরাই দায়ী থাকবে।

তিনি বলেন, ইঙ্গ-মার্কিন ইহুদী ইসরাইলী সাম্রাজ্যবাদ এর সৃষ্টি আবু বকর আল বাগদাদিকে পশ্চিমা মিডিয়া ইতিহাসের এক মহানায়কে পরিণত করেছে। ইসলামিক স্টেটের প্রধান খলিফা আবু বকর আল বাগদাদি মুসলমান নয়। সে একজন ইসরাইলি এবং ইহুদির সন্তান। কৌশলগত দিক বিশেষ গুরুত্বের কারনে ইঙ্গ-মার্কিন ইসরাইল ইহুদি সাম্রাজ্যবাদিরা একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই বাংলাদেশে তথাকথিত জিহাদী জঙ্গিদের দ্বারা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানিয়ে তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে চায়। গুলশানের একটি তুচ্ছ ঘটনার জন্য যদি সৈন্য পাঠাতে হয় তাহলে টুইন টাওয়ারে আক্রমন, হিথ্রূ বিমান বন্দরে বোমা হামলা, জার্মানি ও প্যারিসে ভয়াবহ বোমা হামলা, শার্লি হেবদো পত্রিকায় সন্ত্রাসীদের হামলা, আমেরিকা ও পাকিস্তানের স্কুলে হামলা, তুরস্কের বিমান বন্দরে বোমা হামলা, আমেরিকায় পুলিশের উপর গুলি বর্ষণ করে বহু পুলিশ হত্যা, হোটেলে গুলি করে পঞ্চাশের অধিক মানুষ হত্যা, ভারতের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা এবং সম্প্রতি ফ্রান্সে গাড়ি দিয়ে হামলা করে শত শত মানুষকে হত্যার তুলনায় গুলশানের হামলা একেবারেই তুচ্ছ ঘটনা। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা বাংলাদেশে স্থায়ী ঘাটি বানানোর পথ আবিস্কার করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জিহাদি জঙ্গিদের প্রতিরোধ করা সরকারের একক দায়িত্ব নয়। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। বিশেষ করে আলেম সমাজকে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় জিহাদিদের দায়ভার আলেমদেরই বহন করতে হবে। আলেম সমাজের উচিত দলমত নির্বিশেষে নিজেদের মধ্যে বিরোধ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইঙ্গ-মার্কিন ইসরাইল ইহুদি সাম্রারাজ্যবাদ প্রতিরোধ ও জঙ্গিবাদ দমনে নি:শর্তভাবে সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করা। জুম্মার নামাজের খুৎবার পূর্ব বয়ানে, ওয়াজ মাহফিলে বক্তাদের মাধ্যমে জনগনকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উৎসাহিত করতে হবে। অন্যথায় আলেম সমাজই সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ইসলাম ও ঈমান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের পুলিশ, র‌্যাব এবং সেনাবাহিনী যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ইন্টিলিজেন্ট। তারা সারা বিশ্বব্যাপি অত্যন্ত সুনামের সাথে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন সময় যেকোন ঝুকিপূর্ণ কাজে তারা সফলতার সাথেই মোকাবেলা করেছে। আমাদের সামর্থ্য দিয়েই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। কোন বিদেশিদের সাহায্য আমাদের প্রয়োজন পড়বে না। বরং বাংলাদেশে বিদেশী হস্তক্ষেপ হলে দেশের মানুষ দেশের পুলিশ-র‌্যাব-সেনাবাহিনী ও সরকারের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। যা দেশ ও সরকারের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হবে। এমনকি দেশের মানুষ বিদ্রোহ করে উঠল দাবানলের মত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর সেই সুযোগে জঙ্গিরা অনায়াসে সারা দেশে তাদের নেটওয়ার্ক সুদৃঢ় করে নিতে পারবে। আর তখন ইহুদি খৃষ্টান মদদপুষ্ট বাহিনী বাংলাদেশে স্থায়ী ঘাটি গেড়ে বসবে। সেটা সামাল দেয়া কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না। সুতরাং বিদেশী হস্তক্ষেপ মুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই।

এমবিএইচ