ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহিনুজ্জামানের ওপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ আহত হয়েছেন সাতজন।
চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান তার শাকপালদিয়ার বাড়ি থেকে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা কার্যালয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- আলমগীর ফকির, সৈয়দ তপু, নজরুল ইসলাম, আ. মান্নান, ওদুদ মিয়া ও হাসমত আলী। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরকান্দা পেট্রোল পাম্পের সামনে এলে ২০-২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী তার গাড়ি ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে তারা তার সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করে। এসময় চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামানকে গাড়ি থেকে টেনেহিচঁড়ে নামিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে।

চেয়ারম্যানের গাড়িতে থাকা ছয়জনকেও সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে আমি গত দুই মাস আগে জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার প্রতিকার চেয়েছিলাম। এরপর ইউএনও আবদুল আজিজ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে আমার অফিস ভাঙচুর করেছিলেন। সে সময় আমাকে অফিসে ঢুকতে না দেয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া অর্থ বিতরণের জন্য আমি উপজেলা কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম। পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা, যুবলীগের সাবেক আহবায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার জন্য হামলা চালায়। তারা আমাকে পিটিয়ে ও ধারারো অস্ত্র দিয়ে যেভাবে হামলা চালায় তাতে আমাকে মেরে ফেলার জন্যই পরিকল্পিতভাবেই এটি করেছে। ভাগ্য ভালো বিধায় আমি প্রাণে বেঁচে গেছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ি সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।’

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফসারউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় নগরকান্দায় দু‘পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জেআই,