আবাদযোগ্য জমির টেকসই উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে শুধু রাসায়নিক সার নয়, মাটির প্রাণ জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

তারা আরওবলেছেন, মাটিতে কমপক্ষে শতকরা ৫ ভাগ জৈবপদার্থ থাকার কথা থাকলেও ল্যাবরেটরীতে মাটি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে বর্তমানে তা শতকরা ১ থেকে ২ ভাগে দাঁড়িয়েছে।

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার কিশামত মেনানগর বানিয়াপাড়া ব্লকে জৈবসারের কার্যকারিতা যাচাইয়ের ওপর আয়োজিত এক কৃষক মাঠ দিবসে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কৃষি বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার কৃষক মাঠদিবস ও কৃষি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।উইন সোর্সেস লিমিটেড ও রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে জৈবসারের কার্যকারিতার ওপর এই মাঠদিবস ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

মাঠ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে রংপুর গংগাচড়া তারাগঞ্জ কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সেনানিবাসের ৭২ পদাতিক বিগ্রেডের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. ইসারাত হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর সেনানিবাসের ৩৪ বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল মনোয়ার হোসেন, গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম মওলা, কৃষি তথ্য সার্ভিস রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবু সায়েম ও আঞ্চলিক বেতারের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সোহাগ মাহফুজ।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইসারাত বলেন, প্রতিবছর কৃষি বাজেটের সিংহভাগ ভর্তুকি বাবদ রাসায়নিক সার উৎপাদন ও আমদানিতে খরচ করতে হয়। তাই শুধু মাটির স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য নয়, বরং বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি অর্থ বাঁচাতে তিনি উপস্থিত কৃষকদের নিজেদের বাড়িতে জৈবসার তৈরির পরামর্শ দেন।

ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও নির্মল পরিবেশ রাখতে হলে মাটির স্ব্যাস্থ্য রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি কৃষকদের আরো বেশি করে জৈবসার ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন।

এ ছাড়া মাটির স্বাস্থ্যরক্ষায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্যে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ তিনি করেন।

ঢাকা, ৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর